ঢাকায় রাস্তার ধূলিকণায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি
এস এম আবু সামা আল ফারুকীঃ সম্প্রতি এক গবেষণায় ঢাকায় রাস্তার ধূলিকণায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গার রাস্তা থেকে ধূলিকণা সংগ্রহ করে তাতে ক্ষতিকর ভারী ধাতুর উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়েছে। ঢাকার আবাসিক এলাকা, শিল্প এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, সবুজ আবাসিক এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর কোনটিতে কি পরিমান ভারী ধাতু দূষণ হচ্ছে তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই গবেষণায়। এছাড়া ঋতুভেদে বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও শীতকালে এসব ভারী ধাতুর দুষণের পরিমানও নির্ণয় করা হয়েছে গবেষণাটিতে।
পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দেখা গেছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গার ধূলিকণার মধ্যে ভারী ধাতুর পরিমাণ ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। মৌসুম ভেদেও এই পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। গরম অপেক্ষা শীতের সময় বাণিজ্যিক এলাকার ধূলায় জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ ও তামার পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাতে শীত মৌসুমে ক্রোমিয়াম, লেড, তামা, ম্যাঙ্গানিজ বেশি পাওয়া গেছে। তবে গ্রীষ্মকালে সব এলাকাতে কোবাল্ট ও আর্সেনিকের পরিমান বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষকরা তামা, জিঙ্ক ও লেডকে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ধাতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি থাকায় ধূলায় ভারী ধাতুর পরিমাণ শীতকাল অপেক্ষা তুলনামূলক কম বলে ধারণা করা হয়েছে। এই গবেষণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রন করতে পারবে বলে বিশ্বাস গবেষকদের।
জাপান, বাংলাদেশ এবং চীনের এই যৌথ গবেষণাটি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের একজন সদস্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ব ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকার যেসকল এলাকায় যানবাহনের চলাচল বেশি সেসকল এলাকায় ভারী ধাতুর উপস্থিতিও বেশি। এসব ধাতুর ক্ষতিকর দিক নিয়ে ভবিষ্যতে আরো গবেষণা হবে বলে জানান তিনি।

