বাংলাদেশের নিরাপত্তাই এখন মানদণ্ড -ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রধান রেগ

খেলাধুলা ডেস্ক:

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। কিন্তু যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশের মানুষদের ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রধান রেগ ডিক্যাসন। তিনি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এত সুন্দর একটি সিরিজ আয়োজনের জন্য।

ইংল্যান্ড সিরিজ অনেকটাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গিয়েছিল এক জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পরে। কিন্তু এই ডিক্যাসনের ইতিবাচক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) সিরিজে আসার মনস্থির করে।

বাংলাদেশকে অভিনন্দনে ভাসিয়ে ইসিবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ডিক্যাসন বলেন, ‘আমি ২০ বছর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে কাজ করছি। কিন্তু আমি এখানে যা দেখেছি এবং এখানকার সরকারের আন্তরিকতা আমার দেখা সেরা। এই মুহূর্তে এটাই সর্বোচ্চ মানদন্ড হওয়া উচিৎ।’

বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইংল্যান্ডের চাওয়া অনুযায়ীই ছিল, এমনটাই উল্লেখ করেছেন ডিক্যাসন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যখন এখানে পৌঁছেছি, আমরা দেখেছি, বোর্ড আর সরকার যা বলেছে তেমনটাই করেছে। আমরা যেরকম চেয়েছি, এমনটাই পেয়েছি। তারা দারুণ কাজ করেছে।’

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দলের সাথে আসেননি ওয়ানডের নিয়মিত অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান ও ওপেনার অ্যালেক্স হেলস। কিন্তু দলের বাকি সদস্যরা নিশ্চিন্তেই বাংলাদেশে এসেছেন শুধু মাত্র ডিক্যাসনের প্রতিবেদনের উপরে আস্থা রেখে। ডিক্যাসনও বলেছেন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার কাছে।

তিনি বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই চিন্তিত ছিলাম। আমি মানসিকভাবে এমনিতেই একটু রক্ষণশীল। আর মানুষের নিরাপত্তা তো হালকা বিষয় নয়। আমরা সব সময় দলের একটু আগে বের হয়েছি এবং ক্রিকেট বোর্ডের সহযোগিতায় নিশ্চিত করেছি, তারা যে প্রতিজ্ঞা করেছে সে অনুযায়ীই কাজ করছে। আমাদের যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

ইংল্যান্ড দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই নিয়েছিল বাংলাদেশ। ইংলিশদের জন্য দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ জ্যামে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ডিক্যাসন সেটিও উল্লেখ করেছেন তার ধন্যবাদ বার্তায়।

বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের মানুষের ত্যাগ ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা তাদের অনেক বিড়ম্বনায় ফেলেছি। আমাদের খেলোয়াড়েরা, পুরো দলই সেটা জানত। সে জন্যই আমরা সব জায়গায় সময়মতো গিয়েছি। কারণ, আমরা যদি এক মিনিটও দেরি করতাম, তাহলে সেটা আরও এক লাখ লোককে বিপদে ফেলে দিত। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ দারুণ সহযোগিতা করেছে।’

ডিক্যাসন তার প্রতিবেদনে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আতিথেয়তার কোথাও উল্লেখ করেছিলেন। এবিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি জন কার (ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান) ও ডেভিড ল্যাথারডেলকে (খেলোয়াড়দের সংগঠনের প্রধান নির্বাহী) নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট সবার (বোর্ড, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গেই বসেছি। আমাদের যা বলা হয়েছে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সফরটি হওয়া উচিত।’

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: