মাশরাফির টি-টোয়েন্টি অধ্যায়
খেলাধুলা ডেস্ক:
‘আমি কখনই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উপভোগ করিনি’- এই ফরম্যাটকে বিদায় বলার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু পরিসংখ্যান দেখলে মনেই হতে পারে এমন মন্তব্য যেন অভিমান আর পারিপার্শ্বিক ‘চাপ’ থেকে বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোয় দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস করতে নেমে মাশরাফি হুট করেই ঘোষণা দেন চলতি সিরিজের পর আর ২০ ওভারের ম্যাচে খেলবেন না। সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো টস করতে নামবেন সফল এই অধিনায়ক।
টেস্ট-ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও ঝলমলে পারফরম্যান্স ছিলো মাশরাফির। বৃহস্পতিবারের আগ পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৫৩ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এই ক্রিকেটার। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে এই ফরম্যাটে অভিষেক হয় তার।
ওই ম্যাচে ২২ বলে ব্যাট হাতে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন মাশরাফি। টি-টোয়েন্টিতে ওটাই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস তার। সেবার বল হাতে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। জিতেছিলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। টি-টোয়েন্টিতে ডানহাতি এই পেসারের রয়েছে ৪১ উইকেট। ব্যাট হাতে তুলেছেন ৩৭৭ রান। সেরা বোলিং ফিগারটি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ২০১২ সালে ওই ম্যাচে ১৯ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি।
পরিসংখ্যান বলছে, এই ফরম্যাটে তার নেতৃত্বে খারাপ করেনি বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তার অধিনায়কত্বেই ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। শেষপর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে হার মেনে রানার আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।
বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ২৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে সফলতার হিসাবে (৩৪.৬১%) দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন মাশরাফি। তার নেতৃত্বে ২৭ ম্যাচে ৯ টিতে জিতেছে বাংলাদেশ, হার ১৭ ম্যাচে। ফলাফল আসেনি একটি ম্যাচে। সফলতায় সবার উপরে থাকা মুশফিকের নেতৃত্বে ২৩ ম্যাচে ৮ জয়, ১৪ হার ও একটিতে ফলাফল না আসায় সফলতার হার ৩৬.৩৬%। তবে মাশরাফির হাত ধরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ও পেয়েছে বাংলাদেশ।
যে ফরম্যাটেই খেলেছেন, নিজেকে মেলে ধরার পাশাপাশি দলকে আগলে রেখেছেন পুরোটা সময়। টি-টোয়েন্টিতে তার অভাব কতটা পুরণ করতে পারবে বাংলাদেশ, সেটা মাশরাফির অনুপস্থিতির পরই টের পাওয়া যাবে।

