বাংলাদেশের তুরুপের তাস “লম্বা রেসের ঘোড়া” ওরফে আফিফ!

স্পোর্টস ডেস্ক:

কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়েতে সফল সফর শেষ করে এসেছে বাংলাদেশ। দেশে ফিরেই প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া! যদিও তাদের মূল ব্যাটসম্যানদের কয়েকজন আসেননি; কিন্তু বোলাররা তো প্রায় সবাই এসেছেন। তাছাড়া বাংলাদেশ দলে নেই তামিম-মুশফিক-লিটনরা। এমন পরিস্থিতিতে তরুণদের নিয়ে গড়া দল পরপর দুই ম্যাচে হারিয়ে দিল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে! এই সিরিজের আগে চার দেখায় সবকটিতেই বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সেই অস্ট্রেলিয়া এবার তরুণ টাইগারদের সামনে পাত্তাই পাচ্ছে না!

পরপর দুই দিন দুটি ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এই তরুণ অল-রাউন্ডার সময়ের সঙ্গে নিজেকে আরও পরিণত করে তুলছেন। প্রথম ম্যাচে গতকাল তার ১৭ বলে ২৩ রানে ১৩১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। তিনি এমন মুহূর্তে তেঁড়েফুড়ে মারছিলেন; যখন তার সতীর্থরা নেমেছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তার ব্যাটিং ছিল ভয়ডরহীন। মিচেল স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। বাউন্ডারি হাঁকানোর পাশাপাশি প্রান্ত বদলেও তিনি ছিলেন কার্যকর। দলের জয়ও এসেছে ২৩ রানে।

আজ বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচেও আফিফ আর সোহান এমন সময়ে জুটি বাঁধেন, যখন বাংলাদেশ শিবিরে জেঁকে বসেছে পরাজয়ের শঙ্কা। টপ অর্ডার ধসে পড়েছে। ৬৭ রানে নেই হয়ে গেছে ৫ উইকেট। দলের জয়ের জন্য তখনো দরকার ৫২ বলে ৫৫ রান। এমন সময়ে এই দুজন দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। গড়েন ৪৪ বলে ৫৬* রানের অবিচ্ছিন্ন ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি। আফিফের মারকাটারি ৩১ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৩৭* রানের ইনিংসের পাশাপাশি নুরুলের ২১ বলে ২২* রানের অবদান কম নয়।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রতিভা অকালে হারিয়ে গেছে। এই তরুণদের সামনে এখন বন্ধুর পথ। সাফল্যের পর ব্যর্থতা আসবে। ২-৩টি ম্যাচ খারাপ করলেই দেশজুড়ে শুরু হবে সমালোচনা। আবার তারকাখ্যাতির সামলানো শিখতে হবে। তাহলেই বিপথে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত হয়ে উঠতে এই তরুণদের ট্র্যাকে থাকতে হবে। আফিফ, শরীফুল, নাঈম, নাসুম, মেহেদিদের  ট্র্যাকে রাখার দায়িত্ব বোর্ডেরও কিন্তু কম নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3