প্রেম করে বিয়ের অপরাধে এসিডে দগ্ধ নববধু সাথি!
মো. জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
প্রেম করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অপরাধে শাশুড়ি ও জা’য়ের হাতে এসিডদগ্ধ হয়েছেন নববধু সাথি আকতার (১৮)। এতে সাথির কোমরের নিচে সামন ও পিছনের কিছু অংশ ঝলসে গেছে।
গাইবন্ধা জেলার সদর উপজেলার বানিয়ারজান কালিবাড়ি এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সাথি সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের ৭নং বেড়ে চিৎিসাধীন।
সাথি সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের মৃত্যু জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সাথি স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
হাসপাতালে গিয়ে সাথির সাথে কথা বললে বলেন, ‘সদর উপজেলার বানিয়ারজান কালিবাড়ি এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে সৌরভ মিয়ার (২০) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সংসার বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে প্রেমিক সৌরভের হাত ধরে গত ৩০ জানুয়ারী বাড়ি থেকে পালিয়ে যান চট্রগ্রামে। সেখানে তাদের রেজিস্ট্রি মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের বিষয়টি সৌরভের পরিবার জেনে যায়। পরে সৌরভের মা হালিমা বেগম মোবাইল ফোনে তাদের বাড়িতে আসতে বলেন। বাড়িতে আসলে কোন সমস্যা হবেনা বলে আশ্বাস দিলে তারা দুজনে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর সৌরভের বড় ভাই হাবিবের স্ত্রী রেহেনা সঙ্গে তার বাড়িতে থাকি। কিন্তু সেখানে সৌরভ ছিল না। দুই-তিন দিনেরও সৌরভের সঙ্গে তার দেখা ও বলা হয়নি’।
সাথি আরও বলেন, ‘৬ ফেব্রুয়ারী বিকেলে প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে শাশুড়ি হালিমা বেগম ও রেহেনা তাকে মারপিট করতে থাকে। এসময় তারা পেটে ও কোমরে লাথ্থি দিয়ে রক্তপাত ঘটায়। এক পর্যায়ে তারা বোতলে থাকা এসিড কোমরের নিচে ঢেলে দেয়। রাতভর তাকে ওই বাড়িতে আটক রেখে পরের দিন সকালে ভ্যান-রিক্সা করে নিজ বাড়ি নলডাঙ্গায় পাঠিয়ে দেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে’।
সাদুল্যাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত সেবিকা রুমা বেগম জানান, এসিডে রুমার কোমরের নিচের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে। অল্প সময়ে তিনি সুস্থ হবেন।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিদের চেয়ারম্যান নুরে আলম নান্টু জানান, ঘটনাটি তিনি শোনার পরেই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, এসিড নিক্ষেপের ঘটনা শুনে হাসপাতালে তিনি পুলিশ পাঠিয়ে সাথির খোঁজখবর নিয়েছেন। ঘটনাস্থল গাইবান্ধা সদর উপজেলা হওয়ায় তাদেরকে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

