যৌতুক না দেওয়ায়!
আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা কলেজ পাড়ায় যৌতুক না দেওয়ায় ঘরে আটকে সোনিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে পিতা-মাতার সামনে জোর পুর্বক তালাক লিখিয়ে নিয়েছে পাষন্ড স্বামী, শশুর, শাশুড়ী ও ননদ। সেসময় কেড়ে নেওয়া হয় ওই গৃহবধূর আড়াই মাসের সন্তানকেও।
সোনিয়ার বাবা লিটন বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজার এলাকার কলেজ পাড়ার শরিফুল ইসলামের ছেলে ওয়াশিকুর রহমানের সাথে দেড় বছর আগে বিয়ে হয় হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের মেয়ে সোনিয়া খাতুনের সাথে। মেযের শুখশান্তির জন্য কিছুদন আগে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে জামাইকে ১টি মোটর সাইকেল কিনে দেওয়া হয়। এরপর আবারও জামাই আমার কাছে যৌতুক দাবী করে মেয়ের উপর নির্যাতন করে আসতো।
নির্যাতিত সোনিয়া জানান, বিয়ের পর থেকে আমার বাবার কাছে যৌতুকের দাবি করে প্রতিনিয়ত আমার উপর নির্যাতন করে আসতো। গত সোমবার রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় গৃহবধূ ও তার পিতা মাতাকে। পরদিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করে। বাজারের লোকজন নিজ উদ্যোগে শালিসে বসেন। কিন্ত শালিসে ছেলের পরিবারের কেউ উপস্থিত হয়না। সিদ্ধান্ত ৭ দিন পর মিমাংসা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি ৩ বার আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। তাকে বারবার ফেলে আসে বাবার বাড়িতে। গত সোমবার তার বাবা ও মা মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে বেড়াতে গেলে, রাতে বাড়ির লোকজন মিলে সোনিয়ার মা, বাবা ও তাকে মারপিট শুরু করে। তারা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদেরকে স্থানীয় ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই রাতেই সোনিয়ার কাছ থেকে জোর পুর্বক তালাক নামায় স্বাক্ষর নিয়ে তার আড়াই মাসের শিশু সন্তান নিশাকে রেখে তাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। সকালে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে সোনিয়ার কাছে ফিরিয়ে দেয় মাতব্বররা। এ ঘটনার প্রকৃত বিচার দাবি গৃহবধূ সোনিয়ার।
সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন সোনিয়ার নির্যাতনের কথা স্বীকার করে জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসা করা হবে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর শুনেছি সোনিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

