কটন বাড ব্যবহার মৃত্যুর কারণ হতে পারে!

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
অনেকেই কানের ময়লা দূর করতে খুব ব্যস্ত থাকেন। আর এ ময়লা দূর করতে বাজার থেকে কটন বাড কিনে ব্যবহার করেন। তবে কানের ময়লা কী করা উচিত এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হলো এ লেখায়। অনেকেই বাচ্চার কানের ভেতর মোমের মতো ময়লা দেখতে পান। এছাড়া বড়দেরও কানে ময়লার মতো পদার্থ দেখা যায়। এটি পরিষ্কার করার জন্য কাঠি কিংবা মোটা বা চিকন কটন বাড ব্যবহার করতে দেখা যায় মানুষকে। কানে কটন বাড বা অনুরূপ কোনো বস্তু ব্যবহার করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কোনো অবস্থাতেই কটন বাড ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে কানের ময়লা কিছু বের হলেও বাকি ময়লাগুলো আরও ভেতরে চলে যায়। ফলে কানের উপকারের বদলে অপকারই বেশি হয়। আপনার বাচ্চার কানের ময়লা বের করার কোনো প্রয়োজন নেই।কানের ময়লা নিজে নিজেই বের হয়ে যাবে আর এটাই স্বাভাবিক নিয়ম।

কটনবাড ব্যবহার করে মৃত্যুবরণ করা বিরল ঘটনা। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে কানাডার মন্ট্রিলে। ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাঃ জেসক রামসে কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগকে বলেছেন যে, কটন বাডের প্যাকেটের ওপর সতর্কবাণী লিখে দিতে। মন্ট্রিল নিবাসী ৪০ বছর বয়স্ক মি. ডেনিয়েল সেন্ট পিয়ে গত বছর মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যুর কারণ হলো বহিঃকর্ণের ইনফেকশন, যা কানের পর্দা ছিদ্র করে মেনিনজাইটিস করেছে। মি. সেন্ট পিয়ে একজন কানে মাত্রাতিরিক্ত কটনবাড ব্যবহারকারী।

যে কারণে প্রতিদিন বারবার ব্যবহারের ফলে তার বহিঃকর্ণে ইনফেকশন হয় এবং পরে তিনি আরো বেশি কটনবাড ব্যবহার করাতে তার বহিঃকর্ণের ইনফেকশন মধ্যকর্ণ থেকে অন্তঃকর্ণে বিস্তৃতি লাভ করে। অন্তঃকর্ণ থেকে মস্তিস্ক এবং মস্তিস্কের আবরণ মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরে। যার ফলে ইনফেকশন অতি সহজেই মস্তিস্ক এবং তার আবরণে সংক্রমিত হয়ে হতে পারে মেনিনজাইটিস বা স্পাইনাল কর্ডের চার পাশের প্রদাহ, যা কানের ইনফেকশনের জটিলতা হিসেবে দেখা দেয়।

গত বছর মার্চে মি. সেন্ট পিয়ে কান ব্যথা ও কান থেকে রক্তপাতের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তার কানের পর্দা এত বেশি ফুলেছিল এবং তার কানে এত বেশি রক্ত জমেছিল, যে ডাক্তার কানের পর্দা ভালো করে দেখতে পারেননি। চিকিৎসক তাকে একটি কানের ড্রপ দিয়ে ছেড়ে দেন। সে দিন রাতে বাড়িতে তার অবস্থার আরো অবনতি হয়।

তার স্ত্রী তখন জরুরীভাবে তাকে মন্ট্রিল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ভর্তি করেন। ডাক্তারদের শত চেষ্টার পরও সেখানে তার মস্তিস্ক এবং মস্তিস্কের আবরণের প্রদাহজনিত কারণে জীবনাবসান ঘটে, যা কিনা কটন বাড ব্যবহারের জন্য হয়েছিল। ডা. রামসে বলেছেন, অতিরিক্ত কটনবাড ব্যবহার করলে বহিঃকর্ণ ফুলে যায় এবং তা ব্যবহারকারীকে কান বন্ধ থাকার একটি অনুভূতি দেয়।

কী কী কারণে কানের পর্দা ছিড়ে যায়:
০ কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচালে

০ কোনো কিছু ঢুকলে, তা অদক্ষ হাতে বের করার চেষ্টা করলে

০ হঠাৎ বাতাসের চাপজনিত কারণে যেমন-কানে থাপ্পড় দিলে, কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে, বক্সিং

০ হঠাৎ পানির চাপ, যেমন-পানির নিচে সাঁতার কাটলে, ওয়াটারপোলো, ডাইভিং ক্স মাথায় আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে।

উপসর্গ:
০ কানে ব্যথা। প্রথমে তীব্র ও পরে অল্প ব্যথা।

০ কানে কম শুনতে পাওয়া। অল্প ছিঁড়ে গেলে অল্প কম শুনবে, বেশি ছিঁড়ে গেলে বধিরতা বেশি হবে।

০ কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হতে পারে। মাথা ঘোরাতে পারে, যদিও তা স্বল্পকালীন ।

০ কান পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, কানের পর্দায় ছিদ্র আছে এবং ছিদ্রের চার পাশে এলোমেলো এবং লাল হয়ে আছে।

০ বহিঃকর্ণে রক্ত জমাট থাকতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •