ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও কমেনি দাম

নিউজ ডেস্ক:

সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত কয়েকদিন ধরেই কাঙ্ক্ষিত রূপালি ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে সাগর বেষ্টিত এলাকার জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে। তবে এর প্রভাব এখনও রাজধানীর বাজারগুলোয় এসে পড়েনি। বাজারগুলোতে ইলিশের বেশ সরবরাহ থাকলেও দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি।

বিক্রেতারা বলছেন, বাড়তি চাহিদার কারণেই ঢাকার বাজারে দাম কমতে আরও কিছু সময় লাগবে। রাজধানীর ইলিশ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় উপকূলীয় বিশেষ করে কলাপাড়া, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, পাথরঘাটা এলাকার জেলেপল্লী ও আড়তগুলোতে আনন্দের জোয়ার বইছে। গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিন ইলিশ আরোহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মৎস্য অধিদফতর। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে তারও অনেক আগে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ইলিশ মাছ ধরার স্বাভাবিক কার্যক্রম। লম্বা বিরতির পর গত ২৩ জুলাই রাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় জেলেরা ট্রলার, বোট নিয়ে সাগরে গেলেও প্রথম দিকে জালে তেমন একটা ধরা পড়েনি ইলিশ। পরে অবশ্য দৃশ্যপট বদলায়। এখন প্রতিদিন জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে।

ইলিশের মোকাম খ্যাত বরিশাল, পটুয়াখালী, কলাপাড়া, বরগুনা, পাথরঘাটা, ভোলার ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরের বাজারও এখন বেচাকেনায় বেশ গরম।

ইলিশ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। আর এজন্যই ইলিশ আগের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে। এছাড়া সামুদ্রিক নিম্নচাপ এবং সাইক্লোনের প্রভাবেও বেড়েছে ইলিশের উৎপাদন। দেশের নদীর পানির গুণাগুণ ও প্রবাহ ইলিশের প্রজননের জন্য এখনও অনুকূলে। এ কারণে ডিমওয়ালা মা ইলিশ সাগর থেকে স্রোতযুক্ত মিঠাপানির নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। এছাড়াও ইলিশ মাছের প্রজনন নিরাপদ রাখতে গত কয়েক বছর দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ফলে কমেছে জাটকা, বেড়েছে ইলিশের পরিমাণ।

ইলিশ সাধারণত জুলাই মাসের শেষ দিকে সমুদ্র থেকে নদীতে আসতে শুরু করে। পদ্মা নদীর পানির স্তর ও গভীরতা অন্য নদীর চাইতে বেশি হওয়ায় ইলিশ পদ্মার দিকেই আসে। এ কারণে পদ্মা এবং এর আশপাশের সাগর এলাকায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালীর আড়তগুলোয় এখন শ্রমিকরা ট্রলার থেকে ইলিশ নামানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝুড়িতে করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। একদিকে মাপামাপির কাজ, অন্যদিকে চলে দরদাম। পাইকারি ক্রেতারা সেসব আড়ত থেকে ইলিশ রাজধানীর বাজারগুলোয় নিয়ে আসছেন। এ কারণে যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, কাওরানবাজার মাছের আড়তে এখন ইলিশের ছড়াছড়ি।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সাধারণত ইলিশের দাম নির্ভর করে সাইজের উপরে। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম এবং এক কেজির কম ওজনের সাইজের ইলিশের দাম কখনোই এক হবে না। রাজধানীর বাজারে সাড়ে তিন শ’ টাকা কেজি দরের ইলিশও পাওয়া যায়, যেখানে ২শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজিতে ৫টি। আবার এক কেজি ওজনের বা তার বেশি ওজনের সাইজের ১টি ইলিশ কিনতে হলে গুনতে হবে কমপক্ষে ১২শ’ টাকা। আড়তগুলোয় প্রতিকেজি ইলিশ সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে তা খুচরা বাজারে এসে সেটা ১২শ’ টাকা হচ্ছে। এছাড়া এলাকাভেদে এ দাম আরও বেশি।

ভোলার ইলিশ আড়তদার মোকাররম হোসেন জানিয়েছেন, ‘এবারের ধরা পড়া ইলিশের আকার বেশ বড়। তবে ছোট আকারের ইলিশও আছে। তবে তা পরিমাণে কম।’ তিনি বলেন, সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। কারণ এখনই ইলিশ ধরার প্রকৃত মৌসুম। তাই দাম আরও কিছুটা কমবে বলেও ধারনা করছেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •