কলা চাষ করে আবুল কালাম আজ লাখপতি
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা:
কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরপুক্ষিয়া গ্রামের আবুল কালাম বিগত ২০১৩ সালে ১(এক) একর ৫শতক জমিতে কলা বাগান স্থাপনের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সে লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ মতো বাগান স্থাপন করেন। কলা বাগান স্থাপনে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহনের ফলে তার স্থাপনকৃত বাগান সাফল্যের মুখ দেখেন।
চাষী আবুল কালাম এ প্রতিবেদককে জানান, পূর্বে আমরা কলা বাগান স্থাপন করে বিভিন্ন রোগের আক্রমনে আর্থিক দিক দিয়ে তেমন লাভবান হতে পারি নাই, গাছ ফেটে যেত, ডগা হলুদ কালো রং ধারণ করে অধিক সংখ্যক গাছ মরে যেত ও অনেক ক্ষেত্রে কলা গাছ পঁচে নষ্ট হয়ে ভেঙ্গে যেত। তাই পরবর্তীতে চরপুক্ষিয়া ব্লকের মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ নিতে গিয়ে জানতে পাই মাটিতে চুন প্রয়োগ, সুষম সার ব্যবহার, ভাল ও সুস্থ্য জাতের সুস্থ্য চারা সংগ্রহ করে জমি স্থাপন করে অন্যান্য যত্ন প্রয়োজন মতো নিলে কলা বাগান স্থাপন করে আর্থিকভাবে ভাল লাভবান হওয়া যাবে। সে লক্ষে চরপুক্ষিয়া ব্লক কর্মকর্তার পরামর্শ মতো উক্ত ১(এক) একর ৫শতক জমিতে চাপা জাতের কলা বাগান স্থাপন করি। শুরু থেকে বাগান সুস্থ্য ও পরবর্তীতে ফলবান হয়ে উঠে।
বাগান স্থাপনের ৩৫০ দিন বা প্রায় ১১ মাস পর জমি হইতে কলা সংগ্রহ শুরু হয়ে ১ম বৎসর জমির মোট ১২০০টি কাদি বিক্রয় করে ২,৪০,০০০ (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা আয় করি এবং উক্ত জমির মুড়ি ফসল পরবর্তী বৎসর নিয়ম মাফিক যত্ন করে তা থেকে কলা বিক্রয় করে ২,১৬,০০০ (দুই লক্ষ ষোল হাজার) টাকা সর্বসাকূল্য মোট ৪,৫৬,০০০ (চার লক্ষ ছাপ্পান্ন হাজার) টাকা বাগান হতে আয় হয়, শুরু থেকে শেষ বিক্রয় পর্যন্ত বাগান স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা খরচ বাবদ মোট ১,১৫,০০০(এক লক্ষ পনের হাজার) টাকা ব্যয় হয়। সে হিসেবে মোট খরচ বাদে কলা বাগানের নীট লাভ ৩,৪১,০০০(তিন লক্ষ একচল্লিশ হাজার) টাকা আয় হয়। তাছাড়া বাগান রোপনের পর সাথী ফসল হিসেবে মুগ ডাল চাষ করে ৯০ দিনে তার থেকেও বাড়তি মুনাফা অর্জিত হয়েছে।
চরপুক্ষিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী বলেন, কলা বাগানের জন্য চরপুক্ষিয়া ব্লকের মাটি উপযুক্ত, তবে কলা রোপণের পূর্বে জমিতে চুন প্রয়োগ করে মাটি উন্নত করে ভাল মান সম্মত ও সুস্থ্য সবল বাগান হতে সঠিক সময়ে অসি তেউর চারা সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সুষম সার ব্যবহার ও অন্যান্য উপরি পরিচর্যা সঠিক সময়ে গ্রহন করলে চাষীগণ কলা চাষে লাভবান হবেন এবং সে মোতাবেক চাষী আবুল কালাম ও আমার ব্লকের অন্যান্য কলা চাষীদের সর্ব সময় পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি, যাতে তারা কলা চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্ভী হতে পারেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোজাহার হোসেন আহাম্মদ জানান জালালপুর ইউনিয়নে চরপুক্ষিয়া ব্লকে ব্যাপক হারে কলা চাষ হচ্ছে।
এছাড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে উপজেলার ব্লক পর্যায়ে কলা চাষীদের সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং উপজেলা পর্যায়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

