গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বোরো ধান কাট শুরু
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মাঠে দিগন্তজুড়ে দুলছে সোনালী ফসল। চলতি বোরো মৌসুমে পুরো জেলাজুড়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষক-কৃষাণীরা ধান কাটা-মাড়াইকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নানা প্রতিকূল আবহাওয়া পেরিয়ে বোরো চাষ এবার ভালো হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ধানের দাম কম হওয়ার কারণে কৃষকদের উৎপাদিত খরচ উঠছে না। কৃষকের মুখের হাসি যেন ম্লান হয়ে গেছে। গত বছরে বোরো মৌসুমেও ধানের পর্যাপ্ত দাম পায়নি কৃষক। এ বছর ধানের দাম পাবে এ আশায় ঋণ নিয়ে বোরো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে কৃষক। ধানের দাম শেষ পর্যন্ত কী হবে এই শঙ্কায় কৃষকের মাথায় বাজ পড়েছে।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সোনালী ধানখেতগুলো উঁকি মেরে দেখছে। সোনালী রঙ্গের ধানগুলো রোদে ঝিকমিক করে জ্বলছে। সেই ধান কাটতে চরম ব্যস্ত রয়েছে কৃষকরা। বর্তামানে বিআর-২৮ জাতের ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। আর উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে কৃষকরা জানান।
কৃষকরা আরও জানায়, এ বছর তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সারের দাম বৃদ্ধিসহ এ বছর প্রতিকূল আবহাওয়ায় ধানখেতগুলোতে পোকা মাকড় ও রোগব্যাধি বেশি হওয়ার কারণে ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে কয়েকগুন। এ ছাড়াও এ বছর দফায় দফায় খরার কারণে অনেক কৃষককে বোরোখেতে সেচ দিতে হয়েছে বলে তাদের বাড়তি খরচ হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলার জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন ও জামাত আলী জানান, মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম বাড়ার কারণে ও ধানের দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় কৃষকরা লোকসান গুনছেন।
কৃষকরা আরও জানান, এ বছর তাদের উৎপাদন খরচ হয়েছে মণপ্রতি ৫’শ টাকারও বেশি। স্থানীয় বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৪’শ টাকা দরে। এতে করে প্রতি মণ ধানে ১’শ করে টাকা লোকসান হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ৩’শ ৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও এ বছর বোরো ধানের উৎপাদন আশানুরুপ হয়েছে।

