দীর্ঘ সেশনজটের আশঙ্কা, যেকোনো উপায়ে পরীক্ষা দিতে চান বাকৃবি শিক্ষার্থীরা

BAU

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মহামারি করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের পর থেকে সবকিছুই যেন থমকে গেছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মুখোমুখি হয়েছেন নতুন এক বাস্তবতার। তবে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের শিক্ষার্থীরা। করোনা বাস্তবতায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইন ক্লাস নিলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে পরীক্ষা নিতে পারে নি।

একই অবস্থা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের। করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষা হয় নি। অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে আছে অনেক ফ্যাকাল্টি। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এতদিনে যেখানে দুইটি সেমিস্টারের ক্লাস শেষ হয়ে তৃতীয় সেমিস্টার শুরু হওয়ার কথা সেখানে দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাসও শেষ করতে পরে নি বেশিরভাগ ফ্যাকাল্টি।

এমতবস্থায় অনলাইন কিংবা অফলাইন যেকোন উপায়ে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্যমতে, করোনা পরিস্থিতির পর থেকে যেহেতু কোন ফ্যাকাল্টিই সম্পূর্ণভাবে ক্লাস টেস্ট বা সেমিস্টার ফাইনাল শেষ করতে পারে নি তাই ভ্যাক্সিনেশন শেষ হবার পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও সকল ফ্যাকাল্টি একসাথে সকল ব্যাচের দুটি করে ক্লাস টেস্ট ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিতে পারবে না। ফলে দীর্ঘ সেশনজটে পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের। তাই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অপেক্ষা না করে এখনই আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো শুরু করা উচিত।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন বাকৃবি শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা নিচ্ছে। বর্তমানে ঢাবি, বুয়েট, বেরোবি, হাবিপ্রবি, সিকৃবি, জবি সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সেশনজট কমাতে সাহায্য করছে। কিন্তু বাকৃবি প্রশাসন এখনো নিশ্চুপ, এটা খুবই হতাশাজনক। এতদিনে যখন আমাদের পরিবারের হাল ধরার কথা, সেখানে পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই বাকৃবি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যতদ্রুত সম্ভব আমাদের পরীক্ষা নেওয়া শুরু করুন।

অনলাইনে পরীক্ষা নিচ্ছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অনলাইনে পরীক্ষা নিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।

সেপ্টেম্বরে খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আগামী ২০ আগস্ট থেকে মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যে পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের টিকাদান শেষ করা হবে। এছাড়া প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদেরও টিকাদান দ্রুত শেষ করা হবে। টিকাদান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, আমাদের ছাত্রছাত্রীদের যে সংখ্যা আছে তাতে শিগগিরই তারা টিকার আওতায় চলে আসবে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে টিকার কাজও চলমান থাকবে। এরমধ্যে করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলে সেপ্টেম্বরে সশরীরে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারবো বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য এরআগে গত ২০ মে ২০২১ বিভিন্ন বর্ষের আটকে থাকা পরীক্ষা সমূহ অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে হঠাৎ দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি এবং ময়মনসিংহে লকডাউন জারি হওয়ার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বাকৃবি প্রশাসন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: ,