কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের ইতিহাস

বিনোদন ডেস্ক:

বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। গত ৬ জুলাই পর্দা উঠেছে ৭৪তম আসরের। সারা বিশ্ব থেকে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা জড়ো হয়েছেন ফ্রান্সের এই শহরে।

বাংলাদেশের প্রথম কোনো নায়িকা হিসেবে জমজমাট এ উৎসবের মূল আয়োজনের লাল গালিচায় হাঁটলেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক মহিলা শিক্ষিকার জীবন ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার কাহিনি। সিনেমার নামটি শিক্ষিকার নামেই। সন্তানের প্রতিপালন, আবার ক্লাসরুমে শিক্ষিকার ভূমিকায় এবং তাকেই আবার অ্যাপ্রন চাপিয়ে রোগীর চিকিৎসাও করতে হয়। প্রতিনিয়ত লড়াই করেই চলতে হয় তাকে।কোনো অভিযোগ না থাকলেও কলেজেরই এক ছাত্রীর নিগ্রহের ঘটনার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রেহানা। অথচ কেউই অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না। এভাবেই উঠে আসে সমসাময়িক বাস্তবতার ছবি।

মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। অন্যান্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে আফিয়া জাহিন, কাজি সামি হাসানকে। এই সাফল্য গোটা বাংলাদেশের কাছে গর্বের বলেই মনে করছেন ইউনিটের সকলেই। এর আগে ২০০২ সালে পরিচালক তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ ছবিটি ডিরেক্টর’স ফোর্টনাইট বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে। কিন্তু অফিসিয়াল সিলেকশনের স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশের কোনো সিনেমাই।

পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ টেলিফোনে খবরটা জানাতেই কেঁদে ফেলেছিলেন বাঁধন। সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করেছেন সে-কথা। এই প্রথম কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশন হিসাবে জায়গা পেতে চলেছে বাংলাদেশের কোনো সিনেমা। আর এই ঐতিহাসিক সিনেমাটি সাদের দ্বিতীয় পূর্ণ দৈর্ঘের চলচ্চিত্র ‘রেহানা মারিয়াম নূর’। কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘আন-সার্টেন রিগার্ড’ বিভাগে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি।

অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী এই উৎসব ১৯৪৬ সাল থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের রিজোর্ট শহর কানে প্রতি বছর সাধারণত মে মাসে এটি পালিত হয়।ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব এবং বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সাথে কানকেও সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের সম্মান দেয়া হয়।

৭৪তম এই আসরে ‘ রেহানা মারিয়াম নূর ‘ সহ প্রতিযোগিতা করছে আরো ২০ টি ছবি। আগামী ১৬ই জুলাই বিতরণ করা হবে পুরস্কার। পালে দে ফেস্তিভাল্‌স এ দে কোঁগ্র নামক ভবনটিতে মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3