জাতীয় শিশু দিবস আজ

মাসুমা মমতাজ মীম:

বিপ্লবী কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তার বিখ্যাত কবিতা ‘ছাড়পত্রে’ লিখেছেন—

“প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

১৯৫৪ সাল থেকে জাতিসংঘ শিশু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘জাতীয় শিশু দিবস’ পালন করা হয়ে থাকলেও বাংলাদেশে ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিনটিকেই ‘শিশু দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা থেকেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল – শিশু-কিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে ও তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথনির্দেশ দিতে হবে।

প্রথমে দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করলেও পরবর্তীতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। জাতীয় শিশু দিবস ২০২২ এর মূল প্রতিপাদ্য হলো-
“বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন,
শিশুর জীবন হোক রঙিন।”

সৈয়দ শামসুল হক বলেছিলেন- যেখানে ঘুমিয়ে আছে, শুয়ে থাকো বাঙালির মহান জনক। তোমার সৌরভ দাও, দাও শুধু প্রিয়কন্ঠ শৌর্য আর অমিত সাহস টুঙিপাড়া গ্রাম থেকে। আমাদের গ্রামগুলো তোমার সাহস নেবে, নেবে ফের বিপ্লবের দুরন্ত প্রেরণা। শিশুরা সেই সাহসী সৈনিক যারা আগামী দিনের নেতৃত্বে থাকবে। আর এসব ভবিষ্যত প্রজন্মের সুরক্ষার এবং সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে স্মরণ করার জন্যই মূলত শিশু দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

সুস্থ স্বাভাবিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে প্রতিদিনই শিশুদের যত্ন করতে হবে। দেশের ভবিষ্যত গঠনে, বঞ্চিত শিশুদের জীবনোন্নয়ন, শিশুদের অধিকার সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করা, শিশুরা যেনো দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা পায় সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই প্রতিবছর ১৭ ই মার্চ দিনটি উদযাপন করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3