নির্ধারিত দামে মিলছে না নাটোরের চামড়া -পাচারের আশংকা!
ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি,
ট্যানারি মালিকরা আগে থেকেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও সে দামে চামড়া কিনতে পারেনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটোরের চামড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। নির্ধারতি দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া লবনের দাম আকাশ ছোয়া হওয়ায় প্রক্রিয়াজাত করতে বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। এদিকে, গ্রাম-গঞ্জে বেশি দামে চামড়ার কিনে লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা মাঠ থেকে যে দামে চামড়া কিনেছে তার থেকে অনেক লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, এই বছর ঢাকার ট্যানারি মালিকরা রাজধানীর বাহিরে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪০ এবং খাসির চামড়া ২০টাকা নির্ধারণ করেন। কিন্তু বেধে দেওয়া সে দামে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে চামড়া কিনতে পারেনি তারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টাকা বেশি দিয়ে চামড়া কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে নাটোরের চকবৈদ্যনাথ চামড়ার বাজারে গিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার জমে উঠেনি নাটোরের চামড়ার বাজার। যদিও প্রতিবার শুধু কোরবানী ঈদে দেশের মোট চামড়ার ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ চামড়া সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। ট্যানারী মালিকদের বেধে দেওয়া দামে চামড়া কিনতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর বেশি দামে চামড়া কিনে লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ।
নাটোর চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়দার খান বলেন, প্রতিবছর ঈদের দিন থেকেই জমে ওঠে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নাটোরের চকবৈদ্যনাথের চামড়া বাজার। কিন্তু এবার ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে এখন পর্যন্ত বাজারে তেমন চামড়ার উপস্থিতি নেই। গত বছরের তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ চামড়া আমদানি হয়েছে।
চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাবেক কার্যকরি কমিটির নির্বাহী সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, ট্যানারী মালিকরা দাম বেধে দিলেও সে দামে চামড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া এই বছর লবনের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে খরচ বেশি হচ্ছে। আর ট্যানারী মালিকরা দাম কম দেওয়ায় পাশ্ববর্তী দেশে কাঁচা চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, দাম আগেই নির্ধারণ করা হলেও বেশি দামে চামড়ার কিনে লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তারা মাঠ থেকে যে দামে চামড়া কিনেছে তার থেকে অনেক লোকসানে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছে, বেশি দামে চামড়া কিনে আর বিক্রি করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কেনায় তাদের লোকসানের মূল কারণ।
মৌসুমি ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেন বলেন, আগের বার কিছুটা লোকসান হয়ে ছিলো। এবার আরো বেশি হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা তেমন চামড়া কিনছেন না। তারা এমন দাম বলছে, যে টাকা আমাদের কেনার থেকে দুই থেকে তিন’শ টাকা কম।
এ বিষয়ে নাটোর চামড়া ব্যাবসায়ী গ্রুপের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, নাটোর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৯’শ কোটি টাকার চামড়া ঢাকায় পাঠানো হয়। এবার ট্যানারী মালিকদের কাছে নাটোরের ব্যবসায়ীদের প্রায় দুই’শ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। যার কারনে অনেকেই চামড়া কিনতে পারছেনা। তাছাড়া গত বছর ৭০ শতাংশ চামড়া আমদানী হল্ওে এবার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ চামড়া আমদানী হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে বাঁকি টাকাগুলো পাওয়া গেলে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে আগ্রহি হতো। কিন্তু এবার আর সেটা হচ্ছে না।

