বাকৃবিতে মহিষের কৃত্রিম ভ্রূণ উৎপাদনে সাফল্য
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
মহিষের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও কৃত্রিমভাবে ভ্রূণ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের পশুবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করে আসছেন। এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণা অনুদান লাভ করেন।
ড. মনিরুজ্জামান বলেন, দেশিজাতীয় মহিষের ডিম্বাণু আকারে ছোট ও অনুর্বর। এতে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয় না। ফলে মহিষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয় না। মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃত্রিমভাবে এই ছোট ডিম্বাণু বড় করার উপায় বের করতে কাজ করছি আমরা এবং কাঙ্ক্ষিত সফলতাও পেয়েছি। ডিম্বাণু বড় করা গেলে তা নিষিক্ত করা এবং কৃত্রিমভাবে ওই বড় ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ উৎপাদন করা সম্ভব। পরে সেই ভ্রূণ থেকে মহিষের বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উন্নত জাতের মহিষের জাত যেমন- নিলীরাভি, মুরাহ্রে সিমেন (বীর্য) দেশীয় মহিষের সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে যে বাচ্চা উৎপাদন হবে সেই বাচ্চা থেকে অধিক পরিমাণে দুধ পাওয়া যাবে। তিনি মনে করেন এই গবেষণা অনুদান তার কর্মস্পৃহাকে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এতে তার গবেষণা কার্যক্রম বেগবান হবে। উল্লেখ্য, তিনি জাপান থেকে বংশবৃদ্ধি জৈবপ্রযুক্তির (রিপ্রডাক্টিভ বায়োটেকনোলজি) ওপর পিএইচডি ও পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রসঙ্গত, দেশ খাদ্যশস্যে স্বয়ংসম্পন্ন হলেও প্রাণিজ আমিষ যেমন_ দুধ, ডিম, মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। এতে দেশের মানুষের মাথাপিছু প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উপাদান হলো দুধ। একজন মানুষকে সুস্থ-স্বাভাবিক থাকার জন্য প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মিলিলিটার দুধ খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে দুধের উৎপাদন মাথাপিছু ১২৫ মিলিলিটার মাত্র। অর্থাৎ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দুধের উৎপাদন শতকরা ৫০ ভাগ ঘাটতি রয়েছে।
আমাদের দেশে গরু দুধ উৎপাদনে মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুধ উৎপাদনে প্রথম দশটি দেশের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, দুধ উৎপাদনে গরুর পাশাপাশি মহিষের অবদানও অনেক বেশি। পুষ্টিমানের দিক থেকে মহিষের দুধ গরুর দুধের চেয়ে ভালো। মহিষের দুধে ফ্যাট বেশি থাকায় গরুর দুধের থেকে এটি বেশি সুস্বাদু।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম। ভারতের মোট দুধের শতকরা ৬৫ ভাগ দুধ আসে মহিষ থেকে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মহিষের সংখ্যা খুবই কম। আমাদের দেশে যেখানে গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার সেখানে মহিষের সংখ্যা ১৪ লাখ ৭১ হাজার।
আমাদের দেশের দেশি জাতীয় মহিষ যত্নের অভাবে কম উৎপাদনশীল হয়ে থাকে। কেননা অধিকাংশ মহিষ উর্বর না। দেশে মহিষের কৃত্রিম প্রজননের কোনো সুব্যবস্থা নেই। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা মহিষের কৃত্রিম প্রজননের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: যায়যায়দিন

