কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, ২ শিশুর মৃত্যু
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। দুর্ভোগ কমেনি জেলার ৯ উপজেলার ৬ লক্ষাধিক বানভাসীর। সদরের পাঁচগাছি ইউনিয়ন ও নাগেশ্বরী উপজেলার হাছনাবাদ ইউনিয়নে পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, পাঁচগাছী ইউনিয়নের কলেজ পাড়া গ্রামের সাথী (৮) নামের এক শিশু কলা গাছের ভেলা থেকে নিখোঁজ হয়। শনিবার সকালে তার মৃতদেহ পানির ওপর ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। অন্যদিকে নাগেশ্বরী উপজেলার হাছনাবাদে সোলায়মান আলীর কন্যা খাদিজা (১৮) শনিবার সকালে বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা শিশুসহ ৪ জন।
এদিকে চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে একটি সংযোগ সড়কের ৩০ মিটার ভেঙ্গে পানির স্রোতে ৪ টি বাড়ি ভেসে গেছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে ৫টি গ্রাম।
দুর্ভোগ বেড়েছে বাঁধ ও উচু স্থানে আশ্রয় নেয়া বন্যা দুর্গতদের। বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রিতরা জানান, খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানি, গবাদি পশুর খাবারসহ টয়লেটের সংকটে পড়েছেন তারা। নিজেরা একবেলা খেয়ে দিন পার করলেও গাবাদি পশুদের গাছ ও বাঁশের পাতা খাইয়ে দিন পার করছেন বলে জানান দুর্গতরা।
সদরের শুলকুর বাজার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধে আশ্রয় নেয়া আমেনা জানান, পলিথিন দিয়ে কোন রকমে খাপড়ী ঘর তৈরি করে তার অসুস্থ স্বামীসহ পরিবারের ৯ সদস্যসহ গাদাগাদি করে আছেন। ঘরের খাবার তো নাই। বিশেষ করে টয়লেট না থাকায় বাঁধে আশ্রয় নেয়া সব মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৮৫ টি মেডিকেল টিম কাজ করলেও তাদের দেখা না পাওয়ার অভিযোগ দুর্গতদের।
জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান বন্যা দুর্গতের মাঝে এ পর্যন্ত ৫শ ৭৫ মেট্রিক টন চাউল ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরো ৫শ মেট্রিক টন চাউল ও ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যা বিতরণে কাজ চলছে। সরকারি ভাবে জেলায় ৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৬শ ৮৪ জন বন্যা দুর্গত মানুষ।
সরকারী ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ৬ লক্ষাধিক বানভাসীর অনেকের মধ্যে তা পৌছায়নি। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন সল্প পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ব্যাক্তি উদ্যোগে সদর উপজেলার বিভিন্ন চরের প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেছেন।
বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ২ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কমতে শুরু করেছে তিস্তা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি।

