জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাংবাদিকদের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জঙ্গিবাদবিরোধী যে কোনো পদক্ষেপে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকরা একসঙ্গে কাজ করবে। সাংবাদিকরা শুধু কলম সৈনিক নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত মাঠের সৈনিকও। তারা অতীতের সব আন্দোলনে মাঠে ছিলেন, দেশের সংকটকালীন যোদ্ধা হিসেবে মাঠে থাকবে সাংবাদিকরা।

‘জেগে ওঠো দেশবাসী, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’- স্লোগানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিক নেতারা। এ সময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ডাকে এ মানববন্ধন হয়। এতে অংশ নেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বিএফইউজের (একাংশ) মহাসচিব ওমর ফারুক, বিএফইউজের (একাংশ) সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোল্লা জালাল, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি শাবান মাহমুদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে সমকালের সম্পাদক গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘সাংবাদিকরা শুধু কলম সৈনিক নয়; সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত মাঠের সৈনিকও। অতীতে সব আন্দোলনে সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছে, মুক্তিযুদ্ধে মাঠে থেকেছে। সুতরাং আমাদের এই যে সংগ্রাম, আন্দোলন, সম্পৃক্ততা- এটা ঐতিহাসিক সত্য। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে সংক্ষিপ্ত মহাকাব্য।’

‘তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে দাবাইয়া রাখতে পারবা না’। আমরা আবারও বঙ্গবন্ধু কথা উচ্চারণ করে বলতেছি, আমাদের তোমরা অপশক্তি দাবাইয়া রাখতে পারবা না। কারণ আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত।’

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আজকে জঙ্গিবাদ জাতি ও রাষ্ট্রকে সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইসলামের নামে যারা সহিংসতা করছে, তারা প্রকৃত ইসলামকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিক ও মানুষ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যে সংকটের মোকাবিলা করছে, এখানে কোনো রাজনীতি নেই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো বিভাজন নেই। আমি এটিকে সমর্থন জানাই। সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক। ধর্মের অপব্যাখ্যার নামে হত্যা, সন্ত্রাস করা চলবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে তারা মুসলমান না। তাদেরকে রুখে দিতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তি পাওয়া স্বজনদের বিএনপির কমিটিতে স্থান দেওয়ায় বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ওমর ফারুক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে যারা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান, তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছেন।’

শাবান মাহমুদ বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন রুখে দাঁড়িয়েছে এবং সবসময় রুখে দাঁড়াবে।

আব্দুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, আমরা যদি বাঙ্গালি সাংস্কৃতিকে ধারণ করে এগোতে পারি তাহলে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা সম্ভব।

আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আমরা শুধু কলম চালাব না, আমরা যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করবো।

কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকরা মাঠে আছে, পত্রপত্রিকা, টেলিভিশনে আছে, তারা সবসময় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

এদিকে, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো এই কর্মসূচি পালন করে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: