খাদ্যের অভাবে আর মানুষ মরবে না: প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের কোথাও আর খাদ্যের অভাবে মানুষ মরবে না। রোগে ভুগে মানুষ মারা যাবে না’।

বুধবার সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারি থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, দারিদ্র বিমোচনে কাজ করছে সরকার। এই অঞ্চলে আর কোনদিন মঙ্গা হবে না। মানুষ না খেয়ে মরবে না। তারা যেন স্বাস্থ্য সম্মত জীবনযাপন করতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা করেছি। ‘মঙ্গা’ শব্দটা যেন কুড়িগ্রাম বা রংপুরবাসীকে আর না শুনতে হয় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি’র চরিত্র হলো ক্ষমতায় থাকলে ভারতের বন্ধু, ক্ষমতায় না থাকলে ভারত বিরোধী। তারা ক্ষমতায় থাকতে তো ছিটমহল সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। শুধু ছিটমহল কেন- আমাদের কোনো হিসসা আদায় করতে পারেনি। পারেনি কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ওই সরকার ব্যস্ত ছিলো নিজেদের লুটপাট-আরাম আয়েশ নিয়ে। জনগণের কথা ভাবার সময় কোথায় তাদের।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব সমস্যা রয়েছে তা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হোক। আমরা ক্ষমতায় এসে শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করেছি, যা ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ছিটমহলগুলো এখন আমাদের অংশ। সেখানেও উন্নয়নের কাজ চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা-ঘাট করে দেওয়া হচ্ছে। এই উত্তরবঙ্গের খবর কেউ রাখতো না, এখন উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, মঙ্গা দূর হয়ে গেছে’।

এ সময় জঙ্গিবাদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার সন্তানের বিষয়ে খবর রাখুন, সন্তান স্কুলে-কলেজে যাচ্ছে কিনা, তার খোঁজ খবর নিন। আপনার সন্তান অসুস্থ হয়ে স্কুলে-কলেজে যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যাচ্ছে কিনা তার খোঁজ নিন’।

তিনি আরও বলেন, ‘পাড়া প্রতিবেশী সকলকে খবর রাখতে হবে। আপনাদের সন্তানরা কি করছে। তারা কেন ভুল পথে যাবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। প্রতিটি ধর্মে শান্তির কথা বলা আছে। কেউ যেন ভুল পথে না যায় সে জন্য প্রতিবেশী, নির্বাচিত প্রতিনিধি, প্রশাসন সবার এলাকার তরুণদের খোঁজ রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জনমত সৃষ্টি করতে হবে’।

বেকার সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। তরুণরা দেশের জন্য কাজ করবে, মানুষের জন্য কাজ করবে, নিজের জন্য কাজ করবে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মন্দা মওসুমে সারাদেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। প্রতি বছরের পাঁচ মাস- মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে এই চাল দেয়া হবে। উপজেলা পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি এই সুবিধা প্রাপ্তিদের একটি তালিকা তৈরি করবে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে গঠিত অপর একটি কমিটি এই তালিকা চূড়ান্ত করবে।

জানা গেছে, হতদরিদ্র লোকদের জন্য বিশেষ কার্ড ইস্যু করা হবে। কুড়িগ্রাম জেলার নয় উপজেলার এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৯ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে। এ বছরে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পযর্ন্ত এই চাল বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং সাড়ে পাঁচ লাখ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি করা হয়েছে তোরণ।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: