ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত
ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ ও কুড়িগ্রামের সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্তে নিহত বাংলাদেশির নাম জসিম উদ্দিন (২৬)। অপরদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়তারপাড় সীমান্তে নিহত বাংলাদেশি লাল মিয়া ওরফে দুখু মিয়া (২৫) উপজেলার সোলমারি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাঘাডাঙ্গা সীমান্তে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার বাসিন্দা নিহত জসিমসহ কয়েকজন ভারত থেকে গরু আনার চেষ্টা করে। সে সময় বিএসএফ তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই জসিম উদ্দিন মারা যান। পরে তার লাশ বিএসএফ ভারতের হাসখালী থানায় নিয়ে যায়।
ঝিনাইদহ ৫৮ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, জসিমের লাশ ফেরত চেয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বিজিবি। আজ যেকোনো সময় এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রিয়.কম প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন সাখা জানিয়েছেন শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গয়তারপাড় সীমান্তে নিহত দুখু মিয়া গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে।
সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে রৌমারী থানায় নেওয়া হয়েছে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে মোল্লারচর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আব্দুল আজিজ জানান, সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬১ নং পিলারের কাছে ভারত থেকে গরু নামানোর সময় বিএসএফের ঝাউডাঙ্গা ক্যাম্পের জওয়ানরা গুলি চালায়। এতে লাল মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মৃত্যু হয়। লাশের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে খাটিয়ামারি সীমান্তের ১০৬৩ নং পিলারের কাছ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকালে আকিবুল ইসলাম (৩৫) নামে আরেক গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বিজিবি।
জামালপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল রফিকুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই ঘটনায় গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও পতাকা বৈঠকের আহবান জানানো হয়েছে।

