‘এক গ্লাস পানি ১০ টাকা’-মরিপুর জাতীয় স্টেডিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিরিজ চলাকালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে একটা স্টল পেতে রাত-দিন এক করে ফেলতে দেখা যায় অনেককেই। ভেতরে ভেতরে চলতে থাকে স্টল পাওয়ার লড়াই। যে লড়াই খালি চোখে বা সাধারণ মানুষ দেখতে পায় না। কিন্তু এখানে একটা স্টল থেকে কি এমন ফায়দা আসে?

অতীত থেকে এর ধারণা পাওয়া গেছে। একটা সিরিজ থেকে পুঁজির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ কামিয়ে নেয় স্টল মালিকরা। ২০১১ বিশ্বকাপ কিংবা ২০১৪ টি-টোযেন্টি বিশ্বকাপে চোখ রাখলেই চলবে। ১৫ টাকা মূল্যের এক বোতল পানি বিক্রি করা হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। একটা ৩০ টাকা মূল্যের বার্গার বিক্রি করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। চলতি বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজেও একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

এক ক্লাস পানি বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকায়। এ নিয়ে স্টল মালিকের সাথে কথা বলতে গেলে উল্টো হুমকিই দিলেন ওই স্টল মালিক, ‘এক গ্লাস পানি ১০ টাকা, তো কি করবেন? এখানে এমনই হয়। সব সিরিজেই এমন হয়। এমন না যে আমরাই প্রথম যারা ১০ টাকা গ্লাস পানি বিক্রি করছি। হয়তো আপনি নতুন বলে এসব বিষয়ে জানেন না। এটা বড় কিছু নয়। দেখেন মানুষ কিভাবে খাচ্ছে।’

বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার তৃতীয় ওয়ানডে দেখতে আসা অনার্সের ছাত্র জিমি এ নিয়ে তার ক্ষোভের কথা এভাবে জানালেন, ‘আমরা বাংলাদেশের খেলা দেখতে মিরপুরে এসেছি। এমন নয় যে ভারতে খেলা দেখতে এসেছি। কিন্তু স্টল মালিকদের আচরণে মনেহয় ভিন্ন কোনো গ্রহে চলে এলাম। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।’

ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুনায়েদ পাইকার। বললেন, ‘যেখানে গত বছরের রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া সিরিজে একটি পানীয় কোম্পানি বিনামূল্যে এক লিটার পানি দিয়ে সমর্থকদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে। সেখানে চলমান সিরিজের ব্রেভারেজ পার্টনার কে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

বাংলাদেশের কোনো সিরিজ এলেই এসব স্টল মালিকরা সাধারণ দর্শকদের জিম্মি করে ফেলে। বাইরের কোনো খাবার ভেতরে নেয়ার অনুমতি না থাকায় ক্রিকেটমোদিরাও বাধ্য হন এসব স্টল থেকে পানি অথবা খাবার কিনতে। বিষয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অনেক কর্মকর্তারই জানা। যদিও এ বিষয়ে কখনই কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: