যেখানে বেশি কাঁচামাল সেখানেই শিল্প কারখানা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলেছেন, ‘আমাদের শিল্পায়নে যেতে হবে। চাষ উপযোগী জমি সংরক্ষণ করতে হবে, পণ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। যে অঞ্চলে বেশি কাঁচামাল পাওয়া যাবে সেখানে সেই শিল্প কারখানা গড়ে তুলবো। এ জন্য আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছি’।
শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সমবায় দিবসের এক অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ দেশ পুনর্গঠনকালেই জাতির পিতা সমবায়ের মাধ্যমে এ দেশের আর্থ-সমাজিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। আর সমবায় বৈষম্য হ্রাস এবং সমতাভিত্তিক সমাজের কথাই বলে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দর্শনকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি গ্রামে সমবায় ভিত্তিক মৎস্য খামারসহ গবাদী পশু, হাঁস-মুরগীর খামার গড়ে তুলছে। সামাজিক বনায়ন, সমিতির মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন, তাঁত ও সেলাই, হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কুটির শিল্প, মৃৎশিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বাস্তবায়ন করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষিত-অর্ধ-শিক্ষিত বেকার ও কর্মক্ষম যুব সম্প্রদায়কে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পোল্ট্রি, কম্পিউটার, গবাদী পশু পালন, ক্যাটারিং, ড্রাইভিং, ফুল সাজানো, দর্জির কাজ, ব্লক-বাটিক ও স্ক্রীন প্রিন্ট ইত্যাদি কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের পর সরকারী-বেসরকারী পুঁজির সহায়তায় সমবায়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।
তিনি আরও বলেন, সমবায়কে বহুমুখী সমবায় হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য। আমাদের সরকারের নীতিই হচ্ছে বাংলাদেশকে উন্নত করা। সুখী, সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করা। ইতোমধ্যে দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে। দেশের উন্নয়ন করতে হলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, তবেই হবে মূল উন্নয়ন। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত জাতি যেটা জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১০টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় সমবায় পুরস্কার ২০১৪ প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের পদক এবং সনদপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

