গাইবান্ধায় পুলিশের উপর হামলা -সাড়ে ৩শ’ জনকে আসামি করে মামলা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
রংপুর চিনিকলের আওতাধীন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমিতে আখ কাটতে গিয়ে ৯ পুলিশের উপর হামলা ও তীরবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদশক (এসআই) কল্যান চক্রবর্তী বাদি হয়ে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৩১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
সোমবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় রবিবার রাতেই একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যহত রয়েছে।
এরআগে, রবিবার সকালে রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী পুলিশ পাহাড়ায় (বাগদা-কাটা ফার্ম) এলাকায় আখ কাটতে যান। এসময় আধিবাসী (সাওতাল) ও কতিপয় স্থানীয় দখলদার বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে আধিবাসীরা (সাওতাল) তীর ধনুক, বল্লরাম ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও শ্রমিক-কর্মচারীর উপর হামলা করে। এতে ৯ পুলিশ তীরবিদ্ধ হয়। এছাড়া কয়েক দফায় পুলিশ ও আধিবাসীসহ (সাওতাল) দখলকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অনন্ত ৩০ জন আহত হন।
এদিকে, এ ঘটনার রবিবার বিকেলে ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে র্যাব-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে (বাগদা-কাটা) এলাকায় দখল করে নির্মাণ হওয়ায় প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর বাড়ি উচ্ছেদ ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসময় উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতেই অনেক দখলদাররা পালিয়ে যান।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগদা-কাটা এলাকাতে কোন বাড়ি-ঘরের চিহ্ন নেই। তবে কোথাও কোথাও অস্থায়ী টিনের সেড ঘর নির্মাণের চিহ্নসহ পোড়া ছাই পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে ওই এলাকায় বসবাসকারি আধিবাসীরে (সাওতাল) অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযান চলার পর স্থানীয় লোকজন তাদের অস্থায়ী ঘরগুলো টিন, বাঁশ এমনকি গরু-ছাগল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে সোমবার সকাল থেকেই লুটপাটসহ পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন এখন ওই এলাকা পাহারা দিচ্ছে। সেইসাথে ওই এলাকায় পরবর্তী গোলযোগ এবং লুটপাট এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।

