তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার কারনে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

নীলফামারী সংবাদদাতা:

সম্ভাবনা জাগিয়েও বারবার থেমে যাচ্ছে তিস্তা নদীর পানি বন্টন চুক্তি। আর এই চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হচ্ছে ততই হাহাকার বাড়ছে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের। এ কারণে প্রতিবছর সেচের সময় পানির অভাবে তিস্তা পাড়ের জমিগুলো ধুধু বালুচরে পরিণত হয়। পানি স্বল্পতার কারণে চলতি বছর মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নীলফামারীর তিন উপজেলার বাহিরে তিস্তার সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার রংপুর তিস্তা ভবনে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেচ প্রদানের বিষয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের তিস্তার পানি প্রবাহ কম থাকায় চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ৩ হাজার ৫শ হেক্টর, জলঢাকা উপজেলায় ৬ হাজার হেক্টর ও নীলফামারী সদর উপজেলায় ৫শ হেক্টর জমি রয়েছে। ফলে এবছর সেচ প্রদান সম্ভব হবে না নীলফমারীর ১৮ হাজার ৫শ, দিনাজপুর জেলার ২০ হাজার ও রংপুর জেলার ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র মতে,গত রোববার তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ ১ হাজার কিউসেকে এসে দাঁড়িয়েছে। দিন দিন নদীর পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে চলতি রবি ও খারিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচ প্রদানে জমির পরিমান ১৮হাজার ৫শত হেক্টর কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে এবার ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেচ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজের ক্যানেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র নীলফামারীর জেলার ডিমলা, জলঢাকা, নীলফামারী সদর উপজেলার কিছু অংশে পানি সরবরাহ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। সূত্র মতে,গত বছর ২৮হাজার ৫শ হেক্টর জমি সেচের প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও পানি স্বল্পতার কারনে মাত্র ৮ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে সেচ সররবাহ করতে পেরেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফলে সেচ প্রকল্প এলাকার অনেক জমির ফলন নষ্ট হয়। অনেক কৃষক বিকল্প পদ্ধতিতে জমিতে সেচ প্রদান করতে গিয়ে সেচের খরচ দ্বিগুন বেড়ে যায় বলে জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে,২০১৩ সালে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে পানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও সেচ প্রদান করেছিল ২৫হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। ২০১৪ সালে ৩৭ হাজার ৫ শত হেক্টর জমি কমিয়ে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। কিন্তু তিস্তার পানি প্রবাহ ২শ কিউসেকে নিচে নেমে আসার কারনে মাত্র ৮হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়েছিল। বোরো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি কমতে থাকায় প্রতি বছর এভাবে জমির পরিমাণ কমছে।

একাধিক সুত্র মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ এলাকায় ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেখানে তাদের প্রচুর সেচ দিতে হয়। তার উপর তিস্তা নদীর উপর একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। ফলে তিস্তায় যে পরিমাণ পানি সিকিম থেকে নামছে তা পর্যাপ্ত নয়। যা ভারতের ওই সমস্ত এলাকায় চাহিদা মতো সেচ প্রদান সম্ভব হয় না। সেখানে বাংলাদেশে তিস্তার পানির পাওয়া বিষয়টি প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ আশংকাজনক ভাবে কমে যাচ্ছে।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারন কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ থেকে আগামী ৫ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ প্রদান শুরু করা হবে। কিন্তু উজানের প্রবাহ দিন দিন কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের কমান্ড এলাকায় সম্পুরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি জানান।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান বলেন, গত বছরের তিস্তায় পানি কম থাকার কারনে এবছর সেচ প্রকল্প এলাকা কমিয়ে ১০ হাজার হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: