তানোরের প্রকৃতিতে আগাম বসন্ত বার্তা
মিজানুর রহমান, তানোর সংবাদদাতা:
দহে কবি! নীরব কেন -ফ্লাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?- বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার আকাঙ্খা কবির থাক বা না থাক রাজশাহীর তানোরের প্রকৃতিতে এরই মধ্যে বসন্তের আবহ শুরু হয়েছে। ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলা জুড়ে প্রকৃতির চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রংয়ের কোলাহলে ভরে উঠেছে চারদিক।
বাংলা মাঘ মাসের আজ রোববার ২৫ তারিখ। সেই হিসেবে বসন্ত আসতে এখনো মাঝে ৫টি দিন অপেক্ষার পালা। কিন্তু উপজেলার প্রকৃতির যেন আর তর সইছে না ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে। তাই এরই মধ্যে গাছে গাছে ফুটেছে নতুন ফুল। সেই ফুলের গন্ধে নাচন তুলছে প্রকৃতি। পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক এখনই ব্যাকুল করে তুলছে অনেক বিরহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন দসে কি আমায় নেবে চিনে/এই নব ফ্লাগুনের দিনে…’।
বসন্তের প্রথম দিনে অসংখ্য রমনী বাসন্তী রংয়ে নিজেদের রাঙিয়ে রাজপথ মাড়াবেন। তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রংয়ে, মানুষকে করে আনমনা। তাই বসন্তের আগমন ঘিরে তানোরের প্রকৃতির নাচন এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিমুল, পলাশ গাছে ফুটেছে এরই মধ্যে ফুল। এখন শুধু মাঝের কয়েকটি দিন অপেক্ষার পালা বসন্তবরণে।
তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালির মিলনের বার্তা বহন করে। কারণ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। বসন্তেই বাঙালি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করেছিলেন।

