ঝিনাইদহে লাইফওয়েতে প্রতারিত শতশত যুবক!

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের রোকন, সবুজ, শিপন, রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের রকি, কুমড়াবাড়িয়ার আব্দুল খালেক, রাকিব হাসান, ধোপাবিলা গ্রামের খায়রুল, নগরবাথান গ্রামের আনোয়ার ও মনোয়ার, কুমড়াবাড়িয়ার আলমগীর, কাশিপুরের ফয়সাল ও হরিণাকুন্ডুর খায়রুলসহ বহু যুবক লাইফওয়েতে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারিত ঝিনাইদহের যুবকদের কেও এনজিও থেকে ঋন নিয়ে, গুরু ছাগল বিক্রি করে, মহানজদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে কেও বা জমি বন্ধক রেখে লাইফ ওয়ে বাংলাদেশ লিং (এলবি) তে টাকা দিয়েছে। কিন্তু তাদের সেই টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে। আম ছালা হারিয়ে এ সব যুবকরা এখন হতাশায় ভুগছে। ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে অশান্তি।

গাজিপুর শহরের চৌরাস্তার মোড়ে উল্কা সিনেমা হলের সামনে ১৯শে টাওয়ারে এই কোম্পানীর অফিস। প্রলোভন দেখানো হয় লাইফ ওয়েতে চাকরী করলে মাসে ১৪ হাজার টাকা বেতন ও থাকা খাওয়া ফ্রি। টোকন বিশ্বাস ঝিনাইদহের বংকিরা গ্রাম ছেড়ে চলে যান অচেনা শহর গাজিপুরে। টোকনের মতো দেশের বিভন্ন শহর থেকে আসা বহু যুবক আসেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার আশায়। একের পর এক ট্রেনিং। মাসের বেতন নিশ্চিত করতে হলে সদস্য বাড়াতে এবং তাদের কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা করে আদায় করতে হবে। তবেই মাসের বেতন পাবেন টোকন। টোকন জানান, গ্রাম গঞ্জের হতদরিদ্র যুবকদের স্বপ্ন দেখানোর ফাঁদ পেতে গাজীপুর শহরের এই কোম্পানী ঝিনাইদহের কয়েকশ যুবককে নিঃশ্ব করে ছেড়েছে।

এ ব্যাপারে লাইফ ওয়ে বাংলাদেশ লিং (এলবি) এর ডিস্ট্রিবিউটর বিল্লাল হোসেন জানান, এ সব যুবকদেরকে আমি চিনি এবং তারা টাকাও দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের এটা একটা মার্কেটিং কোম্পানী। টাকার বিনিময়ে এখান থেকে প্রডাক্ট দেওয়া হয়।

ডিস্ট্রিবিউটর বিল্লাল হোসেন প্রতারিক যুবকদের অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, এখানে আসার সময় তাদেরকে ১১টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল। শর্তে উল্লেখ ছিল, যোগদান করার পর চারটি প্যাকেজ সেল করতে হবে এবং প্রতিমাসে চার জন করে সহকারী সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু তারা এ সব না করে ঘরভাড়াসহ অন্যান্য হিসাব নিকাশ বাকী রেখে পালিয়ে চলে গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •