নাটোরে জিন্সপড়া নিয়ে ফেসুবকে স্কুল শিক্ষিকার মাতামাতি-অতঃপর গ্রেফতার
ইসাহাক আলী নাটোর থেকেঃ
জিন্সপড়া পড়া নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দিতে গিয়ে এক নারীর ছবি বিকৃতি করে পোষ্ট করায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার হয়েছেন নাটোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাসনুভা রহমান মিতু। শনিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের কানাইখালী নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটক শিক্ষিকা নাটোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা বিভাগের শিক্ষিকা এবং শহরের কানাইখালী এলাকার মফিজুর রহমানের মেয়ে। এর আগে শুক্রবার রাতে শহর যুবলীগের আহবায়ক অ্যাডভোকেট সায়েম হোসেন উজ্জ্বল বাদী হয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় এমপি’র স্ত্রীর ছবি বিকৃতি করে মিতু অশালীন মন্তব্য বা স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। দুপুরে গ্রেফতার শিক্ষিকাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নাটোর সদর আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের সহধর্মিনীর ছবি বিকৃত করে নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাসসহ ছড়িয়ে দেয় সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের চারু ও কারুকলা বিভাগের শিক্ষিকা তাসনুভা রহমান মিতু। এই স্ট্যাটাসে জিন্স পড়া নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেন শিক্ষিকা। পরে বিষয়টি নজরে আসলে শনিবার সকাল শহরের কানাইখালি নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে ওই স্কুল শিক্ষিকা তাসনুভা রহমান মিতুর ফেসবুক ওয়ালে দেখা যায় গত ফেব্র“য়ারী দুপুর ২.১৬ টায় জিন্স পড়া নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দেন তিনি। এর সাথে তিনি জুড়ে দেন স্যালোয়ার কামিজ পড়া এক নারীর মাথাবিহীন ছবি।
যাতে তিনি লেখেন “ জিন্স পড়লে দোষ, শাড়ি একটু গুছিয়ে পড়লে দোষ। স্যালোয়ার কামিজ পড়ে যেন সতিপনা দেখায় তো এগুলো কি? এদেশেতো নারী পুরুষ জিন্স পরা মেয়েদের দুর্নাম করতে পারলে ভাবে যে সওয়াবের কাজ করল। কিন্তু জিন্স ফতুয়া তো এত কুৎসিত ভাবে কারো শরীরকে প্রকাশ করেনা। অথচ অবলীলায় এভাবে নিজেদের প্রকাশ করছে যারা এবং তাদের যারা দেখছে কারো কোনো সমস্যা নেই। সুতরাং আমরা বলতেই পারি আসলে এদের উদ্দেশ্য……..”
এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ওই ছবি স্থানীয় এমপি’র স্ত্রী ছবি বিকৃতি করে অশালীন স্ট্যাটাসসহ ছবি পোষ্ট করার অভিযোগ এনে মামলা হলে পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে।

