মাদকজগতে নতুন আতঙ্কের নাম এলএসডি

নিউজ ডেস্কঃ মাত্র এক মাইক্রোগ্রামই (এক গ্রামের দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ) নেশা তৈরির জন্য যথেষ্ট। সেবনকারী নিজেকে সুপারম্যানের মত শক্তিশালী ভাবতে শুরু করে, নিজেকে উড়তে দেখে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গান শুনলে গানের সুরগুলো চোখের সামনে রংয়ের মত ঘুরতে থাকবে। অতীত স্মৃতি সামনে চলে আসবে। এর সাথে সেবনকারী আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে। এমনই ভয়ঙ্কর এক মাদক হল এলএসডি বা লাইসার্জিক এসিড ডায়েথিলামাইড।

সসম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর পর এলএসডির বিষয়টি আলোচনায় আসে। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে এলএসডি সেবনের পর নিজের গলায় নিজেই দা দিয়ে কোপ দেন তিনি। এই ঘটনার পর মাদকটির বিস্তার নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু করে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। ফলে এর পিছনে থাকা বিশাল সিন্ডিকেটের নাম উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যারা এক সময় কৌতুহলের বশে মাদকটি গ্রহন করে তারাই বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। অন্যান্য মাদকের তুলনায় বেশ দামী হওয়ায় এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে অপরাধ জগতে প্রবেশ করছে অনেক তরুণ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে এলএসডি যারা দেশে নিয়ে আসছে তাদের বেশিরভাগই পারিবারিকভাবে অনেক মর্যাদাপূর্ণ পরিবারের সদস্য। গুলশান, ধানমণ্ডি, বনানীর মত অভিজাত স্থানে তাদের বসবাস। দুই বছর আগে এভাবেই সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ছেলের মাধ্যমে প্রথম এই মাদক দেশে ধরা পড়ে। মাদকটি আনা হয় কানাডা থেকে। উক্ত ঘটনায় সে বছর ১৫ জুলাই কাফরুল থানায় একটি মামলা হয় যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

মাদকটির বিস্তারে ডার্ক ওয়েব ও বিটকয়েনের ব্যবহার হওয়ায় এর সাথে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করা আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। সামান্য একটা কাগজে এটিকে এমনভাবে স্থানান্তর করা যায় যা শনাক্ত করা দুঃসাধ্য ব্যপার। দেশে মাদকটির উৎপাদন না থাকা এবং অতিরিক্ত দামী হওয়ার পরেও মাদকটির এমন বিস্তার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে হতভম্ব করেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে বলেন, এই মাদক ইনজেক্টেবল, ট্যাবলেট এবং লিকুইড- এই তিনভাবেই গ্রহণ করা হতে পারে। মাইক্রোগ্রাম সেবনেই এটা শরীরে মারাত্মক প্রভাব তৈরি করে।শুরুতে এটা ভালো অনুভূতি দিলেও পরে খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

লাইসারজিক অ্যাসিড থেকে তৈরি করা হয় এলএসডি। বিভিন্ন দানাদার শস্যে থাকা এরগোট ছত্রাক থেকে সেটা তৈরি হয়। এটি এতটাই মারাত্মক যে ১৯৩৮ সালে বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণে এলএসডি তৈরির পর তা ঠোঁটে নিয়ে ভয় পেয়ে যান এর উদ্ভাবক আলবার্ট হোপম্যান। এটি ব্যবহারের এক পর্যায়ে বড় দুর্ঘটনা, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দাসহ নানা সমস্যা তৈরি করে। প্রভাব ফেলে মানুষের হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাত্রা এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে।

তিনি আরও বলেন, এই মাদকের ধরনটা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর আলামত সংরক্ষণও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , , ,