বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা

নিউজ ডেস্কঃ দীর্ঘ ১৫ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোথাও ভবনের ভেতরেই চলছে পশুপালন। আবার কোথাও গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসায়িক পণ্যের গুদাম ঘর। অনেক এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসবাস করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

সন্ধ্যা নামলেই মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয় কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনেক জায়গায় বখাটে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত আড্ডাও দিয়ে থাকে। এছাড়া কোনো এলাকায় প্রতিষ্ঠানের মাঠে এমনকি বারান্দায় চলছে সবজির চাষ। ধুলোর আস্তর পড়েছে আসবাবপত্রে।

ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি। প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও আশপাশ এলাকায় জন্মেছে ঝোপঝাড়। একদিকে পশুপালন আরেকদিকে দিনের পর দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় শ্রেণি কক্ষের ভেতরে তৈরি হয়েছে নোংরা-পুঁতিগন্ধময় পরিবেশ।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ চিত্র মিলেছে।

ভোলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাঠে ও ভবন ঘেঁষে গজিয়েছে ঘাস ও বনজঙ্গল। ব্যবহার না করায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ফ্যান ও বৈদ্যুতিক বাতি। হাজিরহাট মহিলা মাদ্রাসার মাঠ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকান। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মাঠে রাখা হয়েছে সড়কের নির্মাণ সামগ্রী। পটুয়াখালীর কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে এক সহকারী শিক্ষক ধান, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যের গুদাম তৈরি করেছেন।

একই ধরনের গুদাম তৈরি করা হয়েছে ধুলিয়ার চর চাঁদকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে। বরগুনার আয়লার পাতাকাটা ইউনিয়নে গাবতলী চৌদ্দঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেতাগীতে ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গরু রাখা হচ্ছে। এরমধ্যে প্রথমটিতে ওই প্রতিষ্ঠানের এক সহকারী শিক্ষিকার স্বামী গরুর ঘর তৈরি করেন।

প্রতিষ্ঠানটিতে বখাটেদের তাসের আড্ডা, মাদকসেবনও চলে। আর মাঠে ধান শুকান আশপাশের নারীরা। এই একই ধরনের কর্ম চলছে পটুয়াখালীর দশমিনা, রাঙ্গাবালিসহ অন্যান্য উপজেলার স্কুল-মাদ্রাসায়ও।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুদফা পরিচ্ছন্ন কাজ হয়েছে। এখন তৃতীয় দফার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতির নির্দেশনায়ই শ্রেণিকক্ষসহ গোটা ভবন, মাঠ-আশপাশ এলাকা পরিষ্কার করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। সুতরাং, কোথাও নাজুক দশা থাকার কথা নয়। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ী থাকবেন। তাদের চিহ্নিত করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১৩ জুন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: , ,