স্বেচ্ছায় হাতকড়া খুলে নিতে থানায় টিক্কা!
ইসাহাক আলী, নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাদা পোশাকে অভিযান কালে সাদা পোশাকধারীদের টেক্কা মেরে হাতকড়াসহ পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি টিক্কার। সেই হাত করা খুলে নিতে সেচ্ছায় থানায় এসে আইনের কাজে বাধা দেয়ার উল্টো অভিযোগে কারাগারে এখন সে। সে সময় এ অভিযানের সাথে র্যাব-পুলিশের কোন সদস্য জড়িত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করলেও অবশেষে জানা গেলো সাদা পোষাকধারীরা ডিবির লোক।
প্রত্যক্ষদশিরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে বাগাতিপাড়ার তমালতলা বাজারের চা দোকানী টিক্কা (৪০) এর দোকানে সাদা পোষাকে নিজেদের আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে হানা দেয় দুইজন। এ সময় তারা টিক্কা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এমন অভিযোগে তার হাতে হাতকড়া পড়ায়। পরে টিক্কাকে নিয়ে তার বাড়ির ঘরসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালায় আইন শৃংখলা বাহিনীর কথিত ওই সদস্য। এ সময় সুযোগ বুঝে হাতকড়া অবস্থায় পালিয়ে যায় টিক্কা। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার আগেই সটকে পড়ে সাদা পোশাকধারীরা। টিক্কা উপজেলার নূরপূর মালঞ্চি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ও তমালতলা বাজারের চা দোকানী।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সাংবাদিক পর্যন্ত সংবাদটি আসলে জানার জন্য র্যাব-পুলিশের কাছে খোঁজ নেয়া হয়। এ সময় অভিযানের ব্যাপারে তাদের কেউ জড়িত নয় বলে অস্বীকার করে সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু পরে জানা যায় ডিবির এ এসআই গাফ্ফার ও তার এক সঙ্গী টিক্কার বাড়িতে অভিযানে যান কিন্তু টিক্কা হাতকড়াসগ পালালে তারাও গা ঢাকা দেয়। এদিকে পুলিশ র্যাবের এমন বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয় সাদা পোশাকে হাতকড়াসহ অভিযান পরিচালনা কারী এরা আসলে কারা?
এদিকে র্যাবপুলিশ অস্বীকার করার পর বৃহস্পতিবার রাতে সাড়ে ১১ টার দিকে হাতকড়া খুলে নিতে স্বেচ্ছায় বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশের দারস্থ হন টিক্কা। লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, তিনি একজন সাধারন চা বিক্রেতা। সাদা পোশাকের দুইজন লোক নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে তার কাছে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। একই সময় সাদা পোশাক ধারীরা তার বাড়িতে অভিযানে গেলে সে কৌশলে পালায়। কিন্তু হাতকড়া নিয়ে বিপাকে পড়ায় তা থানায় জমা দিতে ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কিন্তু কেউ এর সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও টিক্কা থানায় গেলে ডিবির কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। ডিবি তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অভিযান নেতৃত্ব দেয়া ডিবির এএসআই গাফ্ফার বলেন, টিক্কা মাদক ব্যবসায়ী তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। তবে সে পালানোর পর কেন তারা সটকে পড়ে বা পরিচয় গোপন করে সে ব্যপারে কথা বলতে অপারগতা জানান। এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, আমার থানার কোন সদস্য সাদা পোশাকে অভিযানে যাইনি। তবে ডিবির কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে টিক্কা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মুনশী সাহাবুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন(০১৭১৩৩৭৩৮৫২) রিসিভ করেননি।

