নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ, মোরসালিন হত্যা মামলায় আসামি ১৫০

নিউজ ডেস্ক: “ও মোরসালিন! ও আমার বাবা! ।আমি আমার বাবারে আর কই পামু। নামাজ পড়তে যাইতাছিল আমার বাবা,গ্যান্জামের মধ্যে ডাইক্কা ওরা আমার বাবারে ইট দিয়া বাড়াইয়া মারল!” ছেলের মৃত্যুতে বারবার বিলাপ করছিলেন মা। কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে একটু পরপর শুয়ে পড়ছিলেন তিনি।

নিউ মার্কেটএলাকায় মালিক ও কর্মচারী সাথে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ কেড়ে নিয়েছে কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা নূরজাহান বেগমের ছেলে মোহাম্মদ মোরসালিনের প্রাণ৷

সোমবার রাতে নিউ মার্কেটের দুই দোকানের কর্মচারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। মাঝরাত থেকে মঙ্গলবার সারাদিন দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয় অর্ধশতাধিক। তার মধ্যে মোরসালিনও ছিল।

দুইদিন আগে ইটের আঘাতে আহত ২৬ বছর বয়সী এই তরুণ ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টা ৩৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ২ টা নাগাদ তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলে, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পাশের রুমেই স্বামী মৃত্যুর শোকে বিলাপ করছিলেন মোরসালিনের স্ত্রী মিতু আক্তার।তার কোলে ছিল সাত বছরের মেয়ে হোমায়রা আর চার বছরের ছেলে আমির হামজা। অবুঝ শিশুদুটি মায়ের দিকে। তাদের বাবা নেই, সেটা বোঝার বয়সও তাদের হয়নি। কান্না আর আহাজারির মধ্যেও বারবার খুঁজছিল তাদের বাবাকে।

নিউ মার্কেটে একটি তৈরি পোশাকের দোকানে কাজ করতেন মোরসালিন। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। বাবার নাম মানিক মিয়া।

মোরসালিন নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার থানায় অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার বড় ভাই নূর মোহাম্মদ। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন নিউ মার্কেট জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শাহেনশাহ

  •  
  •  
  •  
  •