ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়িসহ শত শত বিঘা জমি বেদখল

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণে ১৩ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বাগুটিয়া। গ্রামের একপ্রান্তে কাঁচা রাস্তার পাশে চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা ৯ রুমের পুরনো একটি দ্বিতল বাড়ি। গ্রামের মানুষ শুধু জানে, বাড়িটি একজন সংগ্রামী মানুষের।

সেই সংগ্রামী মানুষটি হলেন তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী, নাচোলের রানী ইলা মিত্র। বাগুটিয়া গ্রামের এই বাড়িটি ইলা মিত্রের পৈতৃক বাড়ি। ইতিহাসের সাক্ষী এই বাড়িটি বেদখলে রয়েছে। ভেঙে পড়তে শুরু করেছে ইটের গাঁথুনিগুলো। চওড়া দেয়ালঘেরা প্রাচীরের অনেক অংশ ভেঙে ফেলেছে দখলদাররা। শুধু বাড়ি নয়, দখল করা হয়েছে ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেনের রেখে যাওয়া শত শত বিঘা জমি। সরকারি কাগজপত্রে এগুলো ভিপি তালিকাভুক্ত হলেও বাস্তবে তা এলাকার প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে।

ইলা মিত্র বাংলাদেশের এক কিংবদন্তি নারী। বাবা নগেন্দ্রনাথ সেনের চাকরির সুবাদে ইলা সেনের জন্ম কলকাতায়। ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন বেঙ্গলের ডেপুটি অ্যাকাউনটেন্ট জেনারেল। মা মনোরমা সেন গৃহিণী। ঝিনাইদহের বাগুটিয়া গ্রাম তাদের পৈতৃক নিবাস। ইলা মিত্রের জন্ম কলকাতায় হলেও ছোটবেলায় তিনি কয়েকবার বাগুটিয়ায় এসেছেন।

তিনি কলকাতার মানিকতলা নির্বাচনী এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার সদস্য নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি কলকাতা সিটি কলেজের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপিকা হিসেবে ১৯৮৯ সালে অবসর নেন। ইলা মিত্রের বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন, মা মনোরমা সেন, দাদা রাজমোহন সেনের নামে রয়েছে কয়েকশ’ বিঘা জমি। এসব ভিপি সম্পত্তি হিসেবে সরকারি খাতায় থাকলেও তার সবটুকুই এখন বেদখলে।

তবে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, এসব সম্পত্তির ব্যাপারে সেটেলমেন্ট অফিসে আপত্তি ও দুই শতাধিক মামলা করা হয়েছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।

শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল আলম জানান, তিনি এ ব্যাপাওে কিছুই জানেন না। তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: