এবার গাইবান্ধায় বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার!
মো. জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ও শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চে পুরাতন ফ্রেমের রড ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেঘডুমুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজের দোয়িত্ব পান জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার ঠিকাদার মো. আব্দুল খালেক।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার আব্দুল খালেক কাজ শুরু পর থেকে তিনি কখনো দিনের আলোয় কোন কাজ করেন না। শুরু থেকেই তিনি বিদ্যালয় নির্মাণ কাজ করে আসছেন রাতের অন্ধকারে। নিয়মনীতি অনুসরণ না করে রাতের অন্ধকারে বিদ্যালয় ঢালাইয়ের কাজে রডের পরিবর্ততে বাঁশের কঞ্চি ও বেঞ্চের পুরাতন ফ্রেমের রড ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, ঠিকাদার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণি কক্ষ খুলে নিয়েছিল মিস্ত্রীদের থাকার জন্য। সেই কক্ষে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বেঞ্চ ভেঙ্গে তার পুরাতন লোহার ফ্রেমগুলো ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করেছেন।
বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ও বেঞ্চের পুরাতন ফ্রেমের রড ব্যবহার করার বিষয়টি শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন জানতে পারেন। পরে এ ঘটনা দেখে তারা কাজ বন্ধ করে করে দেন। তখন এলাকাবাসীর চাপের মুখে ঠিকাদারের লোকজন পালিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবকক মিজানুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও আনোয়ার মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মাণ কাজে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদারের শাস্তি দাবী জানান।
গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী এসএম আরেফ বিল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অমান্য করে ব্লক নির্মাণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে ৮ সদস্যর তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিলে দায়িত্বরত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দায়িত্বরত ঠিকাদার আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

