৯ বছরেও জনবল নিয়োগ হয়নি ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতালে

আহমেদ নাসিম আনসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
উদ্বোধনের প্রায় ৯ বছর হতে চললেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ২৫ শয্যার ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল। তিনজন মেডিকেল সহকারী দিয়ে কোনোমতে বহিঃর্বিভাগ চালু করা হলেও ওষুধ না থাকায় চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। বিদ্যুতের লাইন পর্যন্ত লাগানো হয়নি। অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় হাসপাতাল এলাকা পরিণত হয়েছে গো-চারণভূমিতে আর ফাটল দেখা দিয়েছে চারটি ভবনে।

জেলা সিভিল সর্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের বাসটার্মিনালের পাশে ৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালের আগষ্ট মাসে। তৎকালীন সরকরের ক্ষমতা ছাড়ার শেষ সময়ে ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনিক অনুমোদন ও কোন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ২০১০ সাল পর্যন্ত এটি বন্ধ ছিল।

২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে তিনজন মেডিকেল সহকারী ও দুইজন কর্মচারী প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটির বহিঃর্বিভাগ চিকিৎসা সেবা চালু করা হয়। প্রথমে কিছু ওষুধও সরবরাহ করা হলে গত ২ বছর থেকে তা বন্ধ থাকায় হাসপাতালে প্রতিদিন ৫/৭ জন রোগী আসছে। এমন অবস্থায় হাসপাতালে কর্মরতদের সময় কাটছে গল্প আর আড্ডায়। হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় বহির্বিভাগে কমকর্করাও আছেন দুর্ভোগে।

কর্মচারীবৃন্দ জানান, ওষুধ বরাদ্দ ও কোন বিশেষষ্ণ চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, এদিকে হাসপাতালের ভবনগুলোতে রয়েছে ভুতুড়ে পরিবেশ, গোটা এলাকা পরিণত হয়েছে গো-চারণভূমিতে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় চারটি ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে লোকবল নিয়োগের মাধ্যমে হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার দাবি।

শিশু হাসপাতালের বেহাল দশার কথা জানিয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে ৫ জন চিকিৎসক সহ ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিভিল সার্জন। জনবল নিয়োগ দিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে হাসপাতালটি চালুর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম।

  •  
  •  
  •  
  •