রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফের উৎপাদন শুরু
নিউজ ডেস্ক:
ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। বুধবার রাত ১১টার পরপরই শুরু হয় কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম। এরপর সঙ্গে সঙ্গেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় জাতীয় গ্রিডে।
এর আগে এ নিয়ে চলে কয়েক দিনের টানা স্টার্টআপ প্রক্রিয়া। টেকনিক্যাল নানা প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতেই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি চাহিদানুযায়ী উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে জাতীয় গ্রিডেও।
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আমদানিকৃত কয়লা মজুতে বা সংরক্ষণে ৪টি শেডে সক্ষমতা রয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে ৪টির মধ্যে ২টি শেড প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ কেন্দ্রের শেডে ৩০-৩৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ফুল লোডে প্রতিদিন কয়লার চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন। মজুত কয়লা দিয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলতে থাকার মধ্যেই আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০-৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কয়লা নিয়ে একটি বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়েতে আসার শিডিউল রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ বিনিয়োগে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাগেরহাটের রামপালে তৈরি করা হয়। গত বছরের ১৫ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। এরপর ১৭ ডিসেম্বর থেকে এই কেন্দ্রের একটি ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছিল। এর উৎপাদন ক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। প্রতিদিন উৎপাদন করা হচ্ছিল ৫৬০ থেকে ৫৭০ মেগাওয়াট। এলসি জটিলতায় কয়লা আমদানি ব্যাহত হওয়ায় কয়লা সংকটে গত ১৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল।
মূলত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক গত আগস্টে চালু হয়। এরপর ডিসেম্বরে পুরোপুরি চালু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়। আর বাকি ৬৬০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটের আগামী জুন-জুলাইয়ে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

