ঝিনাইদহের ১৫ হাজার চাতাল শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন
আহমেদ নাসিম আনাসারী, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
দেশের চাতাল পল্লী হিসেবে খ্যাত ঝিনাইদহে প্রায় সাড়ে ৩ হজার চাতালে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। মুজুরী কম পাবার পাশাপাশি এসব পরিবারে না আছে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা, জন্মনিবন্ধন ও প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার ক্ষমতা। রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা থেকেও এরা বঞ্চিত। এদের একটাই কাজ হাড়ভাঙ্গা খাটুনী আর খাটুনী। আর এই ভাবেই এক সময় যৌবন থেকে পৌড়ত্বে পৌছে যায় তাদের বয়স।
ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, জেলার ডাকবাংলা, বিষয়খালী, ভাটই, গাড়াগঞ্জ ও শৈলকূপা অঞ্চলে চাতালের সংখ্যা বেশি। প্রতিটি চাতালে ৫থেকে ১০ জন করে শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছে। চাতাল পল্লীগুলোতে স্বাক্ষর জ্ঞান আছে সামান্য। শ্রমিকদের সন্তানরাও ছোট থেকেই জড়িয়ে পড়ে এই পেশায়।
মনবাধিকার কর্মী নাসরিন সুলতানা জানান, যাদের ঘর্মাক্ত শরীর আর বিন্দু বিন্দু রক্তের ফোটায় তিল তিল করে গড়ে ওঠে মালিকের সম্পদের পাহাড়, সেই চাতাল শ্রমিকদের দুরাবস্থার কথা যেন শোনার কেউ নেই।
চাতাল শ্রমিক আম্বিয়া খাতুন জানান, রাত ২টা থেকে থেকে ধান ভেজানো, ধান সিদ্ধ করা, সূর্যোদ্বয়ের সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধ ধান শুকাতে দেয়া, দিনভর ধান নাড়াচাড়া শেষে শুকিয়ে মিল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তাদের বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ থেকে ২০ ঘন্টাই কাজ করতে হয় তাদের। অথচ মজুরি খুবই সামান্য। কমপক্ষে ১৮ ঘন্টা কাজ করে মহিলা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক সর্ব সাকুল্যে ৩৫০ টাকা।
চাতাল শ্রমিক মন্জুরা বেগম জানান, চাতাল শ্রমিকদের মধ্যেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ। নির্দ্দিষ্টভাবে চাতাল শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য কোন কর্মসূচি নেই। সরকারীভাবে যদি আমদের কাজের সময় ও মজুরী নির্ধারিত থকতো তবে আমদেও কষ্ট কিছুটা হলেও কমতো।
মোয়াজ্জেম হোসেন, ঝিনাইদহ চাতাল মালিক এ্যাসোসিয়েশন নেতা, জানান, একমাত্র সরকারী পৃষ্ঠপোষকতাই দেশের চাতাল মালিক ও শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে পারে। ব্যবসা লসের কারনে আমরাও ইচ্ছা করলেই শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে পারি না। ব্যাংক লোন ৪% হলে আমাদেরও কিছু থাকে আবার কর্মরত শ্রমিকদেরও ন্যায্য মজুরি দেয়া যেতে পারে।

