গৃহবধূ ধর্ষিত; মামলা নেয়নি আদিতমারী থানা পুলিশ !

লালমনিরহাট সংবাদদাতাঃ

তৌফিক আলম(২৬) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষনের দায়ে থানায় অভিযোগ দায়ের পরেও ৭দিন হলেও লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় অভিযোগ আমলে নেয় নি পুলিশ। ধর্ষকের পরিবার উল্টো ধর্ষিতাকে গ্রাম ছাড়ার হুমকী দিলে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ৭দিন পর আদালতে মামলা করেন ধর্ষিতা।

মঙ্গলবার(৩১মে) জিবনের নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষিতা।আদালতের মামলার বিবরনে প্রকাশ, আদিতমারী উপজেলা মহিষখোচা ইউনিয়নের ফাতাংটারী গ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম খাঁন ওরফে জাহেদুল মহাজনের লম্পট ছেলে তৌহিদ খাঁন(২৬) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার প্রতিবেশী ভুমিহীন হোটেল শ্রমিকের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী (৩০) সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।এ সম্পর্কের জের ধরে দীর্ঘদিন যাবৎ অবাদে মেলামেশা করে আসছে। শুধু অনৈতিক সম্পর্কই নয় আপত্তিকর অবস্থার কিছু ভিডিও ফুটেজ গোপনে ধারন করত ওই যুবক। পরবর্তিতে গত রোববার(২২মে) দিনগত রাতে ধর্ষিতার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে পুনরায় অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় ওই যুবক।এ সময় তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে উল্টো মোবাইলে ধারন করা নগ্ন ভিডিওটি বাজারে ছেড়ে দেয়ার হুমকী দেয় ধর্ষক তৌহিদ। পরে ধর্ষিতা ওই যুবককে আটকে দিলে মোবাইলটি রেখে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হয়।
ধর্ষিতা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিকট বিচার প্রার্থনা করলে সোমবার(২৩মে) দিনভর আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করলে প্রভাশালী একটি মহলের চাপে ব্যর্থ হয়। ওই প্রভাবশালী চক্রটি বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

অবশেষে ধর্ষিতা গৃহবধূ মঙ্গলবার(২৪মে) বিচার চেয়ে আদিতমারী থানায় ধর্ষক তৌহিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই সাথে আলামত হিসেবে রেখে যাওয়া ধর্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও থানা পুলিশকে জমা দেন ধর্ষিতা।

থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার(২৬মে) ধর্ষক তৌহিদের লোকজন ধর্ষিতার বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ধর্ষিতাকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকী দেয়। ।

এদিকে অভিযোগ দায়েরের ৭দিন অতিবাহিত হলেও অদৃশ্য কারনে থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ধর্ষক তৌহিদের লোকজন উল্টো তার ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে দেয়ার হুমকী দিচ্ছে বলে ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ।

ধর্ষিতা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মঙ্গলবার(৩১মে) ধর্ষিতা নিজে বাদি হয়ে ধর্ষকসহ ৫জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই ধর্ষিতা জানান, থানায় বারংবার যোগাযোগ করা হলেও আসামীদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আজ-কাল বলে বিলম্ব করছে পুলিশ। তিনি বলেন, “ভাই আমাকে বাঁচান, এখন আত্নহত্যা করা ছাড়া আমার কোন পথ নেই”। এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ধর্ষিতা ও তার পরিবার।

মঙ্গলবার(৩১মে) দিনগত রাত ১টার দিকে আদিতমারী থানার ওসি(তদন্ত) আব্দুস সোবহান জানান, অভিযোগটির তদন্ত করতে অফিসার পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযোগটি আমলে না নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

  •  
  •  
  •  
  •