নিখোঁজের ৯দিন পর নারী এনজিও কর্মী উদ্ধার

সনজিৎ কুমার মহন্ত:
রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজের ৯দিন পর হাত ও মুখ বাঁধা জীবিত অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস (২৪) নামে এক নারী এনজিও কর্মীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের নির্জন রাস্তার ধার থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের বিষয়টি জানিয়ে কাউনিয়া থানার এসআই মমিন মিয়া জানান, স্থানীয় লোকজন রশি দিয়ে হাত এবং ওড়না দিয়ে মুখ বাধা অবস্থায় জীবিত এক নারীকে রাস্তার ধারে পরে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে পুলিশ কাউনিয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে হরিশ্বর গ্রামে রাস্তার ধার থেকে তাকে উদ্ধার করে। জান্নাতুল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ধুবনী মধ্যকাঞ্চি পাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম মেয়ে ও কারমাইকেল কলেজের মাস্টার্স (প্রাইভেট) প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জান্নাতুল গন উন্নয়ন নামের একটি এনজিও’র মাঠ কর্মী। তিনি রংপুর সদরের মুলাটল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১৬ জুন সকালে বাড়ী থেকে বের হয়ে অফিসের কাজ শেষে আর বাড়ি ফিরে যাননি। এ ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম কোতয়ালী থানায় একটি ডায়েরী করেন। নিখোঁজ হওয়ার ৯দিন পর কাউনিয়া থেকে উদ্ধারের পর তাকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বিপুল সাহা জানান, জান্নাতুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার পিঠে ও পায়ের মারপিটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়াও তাকে অচেতন করার জন্য বিপুল পরিমান ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে।

জান্নাতুল সাংবাদিকদের জানান- কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের মোজাহারুল আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু মোজাহারুলের প্রথম স্ত্রী তাদের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। গত ১৬ জুন মিথ্যা ছলে তাকে বাড়ীতে এনে তালাক নামায় স্বাক্ষর করতে বলে। এতে রাজী না হওয়ায় মোজাহারুলের প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন তাকে হাত ও মুখ বেঁধে ঘরে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়। শুক্রবার সন্ধ্যায় জোড় করে দুধ খাওয়ানো হয়। দুধ খাওয়ার পর আর কিছু বলতে পারি না। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে। জান্নাতুলের পিতা শফিকুল ইসলাম বলেন, তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, এ ব্যাপারে জান্নাতুলের পিতা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •