বাল্যবিবাহ… স্বপ্ন ভঙ্গ সুমাইয়ার

সনজিৎ কুমার মহন্ত:
রংপুরের পীরগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার স্মৃতির বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগ করেও ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠেকাতে পারেনি। অভিযোগ পেয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম পুলিশ নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে তিনি প্রথমে বিয়ের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সুরাইয়া আক্তার সৃতি পীরগঞ্জ আর্দশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাড়ী উপজেলার ধনশালা গ্রামে। জানা গেছে, পীরগঞ্জ আর্দশ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ও উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ধনশালা গ্রামের মৃত-হাসেন আলী ওরফে সাবুর কন্যা সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি। বিদ্যালয়ের ভর্তি বহি অনুয়ায়ী তার জন্ম ২০০৩ সালে ১৭ ডিসেম্বর অনুয়ায়ী ১৩ বছর। সুরাইয়া আক্তার স্মৃতির লেখাপড়ার প্রতি ইচ্ছে ছিলো প্রবল কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে তারই গর্ভধারিনী মা লিপি বেগম। দাদা-দাদী, চাচা, জ্যাঠা ও গ্রামবাসি এবং সুরাইয়া আক্তার সৃতির ইচ্ছে বিরুদ্ধে মাতা লিপি বেগম একই ইউনিয়নের সাতগড়া গ্রামের দুলা মিয়ার পুত্র শামীম মিয়া (২৮) সাথে গত বুধবার মেয়ের বিয়ের দিন ঠিক করেন। বিয়ের দিন ওসি রেজাউল করিম বাল্যবিয়ে বন্ধে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। পরে সুরাইয়া আক্তার সৃতি’র বিয়ে সম্পন্ন করান মদনখালী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের আব্দুল কাদের মিয়ার পুত্র ও ধনশালা দক্ষিণপাড়া মসজিদের ঈমাম মাওলানা আবুল কাশেম। ওই বাল্যবিয়ে রেজিষ্ট্রি করান নিকাহ রেজিষ্টার (কাজী) ও ঝোরারঘাট শাহ্ ছালেকীয়া দাখিল মাদ্রাসার (অবঃ) সুপার আলী রেজা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসি জানান‘ নাবালক মেয়ের (সুরাইয়া আক্তার সৃতির) বিয়ে বন্ধে পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছিলাম। পুলিশ এসে বিয়ে বন্ধও করেছিলো। জানিনা পরে তার উপস্থিতিতে কিভাবে ওই বিয়ে সম্পন্ন হলো। এ ব্যাপারে ওসি রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন বিয়ে তাদের আগেই হয়ে গেছে পরে যদি অভিভাবক গোপনে বিয়ে দেয় তাহলে তো আমার কিছু করার থাকে না।

  •  
  •  
  •  
  •