পীরগঞ্জ প্রকৌশলীর দুর্ণীতি ও অনিয়ম চরমে
সনজিৎ কুমার মহন্ত
উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীদের নানা দূর্ণীতি ও অনিয়ম স্বেচ্ছাচারিতা চরম আকার ধারণ করেছে। আর এই অনিয়ম দুর্ণীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । গত ১৪ জুন পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের পাঁচ কার্যসহকারী (ওয়ার্ক এসিসটেন্ট) স্বাক্ষরিত ওই লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হলে তার অফিসের ইন্টারনাল বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোর কথা সাফ জানিয়ে পত্রিকায় যা লেখার তিনি লিখতে বলেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে রাজস্ব খাতের চার কার্যসহকারী ও পিইডিপি প্রকল্পের অধীনে আল আমিনসহ পাঁচজন কার্যসহকারী রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত উপজেলায় ১০টি গ্র“পের রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব কাজ উপসহকারী প্রকৌশলীদের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কাজে একজন করে কার্যসহকারীও দায়িত্ব পালন করার কথা কিন্তু ১০টি গ্র“পের রাস্তার কাজ তদারকি করার জন্য কোন কার্যসহকারীর নামেই (অর্ডারপত্র) চিঠি ইস্যু করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমান এ উপজেলায় যোগদান করার পর অদ্যবধি কার্যসহকারীর বিপরীতে মাষ্টার রোলে নিয়োজিত অফিস সহকারী ইব্রাহীমকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়ে ওইসব কাজ তদারকি দায়িত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও এডিপি, এলজিএসপি’র কাজ তাদের তদারকি ছাড়া কিভাবে সম্পন্ন হয় তাও জানেন না কার্যসহকারী গন।’ ‘অপরদিকে উপজেলায় নির্মাণাধীন পুষ্টি ইন্সটিটিউট, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ এবং চারটি ইউনিয়নের এডিপি, এলজিএসপিসহ চেয়ারম্যানদের কাজের মতো গুরুত্বপূর্ন কাজে উপসহকারী প্রকৌশলীর বিপরীতে সার্ভেয়ার লুৎফর রহমানকে দায়িত্বে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। সুযোগ বুঝে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা প্রকৌশলীর সাথে যোগসাজস করে তাদের ইচ্ছেমত কার্যাদী সম্পন্ন করে থাকেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।’ ‘প্রকৌশলী মজিবর রহমান অডিট মেটানোর অজুহাতে গত এপ্রিল মাসের বেতনভাতা থেকে কার্যসহকারী বেলাল হোসেন, আব্দুস সালাম সরকার, শফিকুল ইসলামসহ প্রত্যেকের কাছে ২হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা, কম্পিউটার অপারেটর কল্পনা রাণীর কাছে ১ হাজার টাকা, নৈশপ্রহরী নারায়ণ চন্দ্র ও আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ১ হাজার করে মোট ২ হাজার টাকা এবং অফিস সহকারী তাসলিমা বেগমের কাছে ২ হাজার টাকাসহ মোট ১১ হাজার টাকা কর্তন করেছেন।’ ‘এছাড়াও ২০১৫-২০১৬অর্থ বছরের ক্লোজিং (জুন-ক্লোজিং) এর আগেই গত ২ জুন কার্যসহকারী বেলাল হোসেনের নামে ২২ হাজার, অপর তিন কার্যসহকারী আব্দুস সালাম সরকার, শফিকুল ইসলাম এবং আফিজ উদ্দিন প্রত্যেকের নামে ১৪ হাজার টাকা করে মোট ৬৪ হাজার টাকার ট্রাভেল এ্যালাউন্স (টিএ বিল) প্রকৌশলীর নির্দেশে ট্রেজারীতে পাশের পর পীরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেন ওই কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক হাফিজার রহমান। গত ৬ জুন উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক হাফিজার রহমান ওই ৪ কার্যসহকারীকে ট্রাভেল এ্যালাউন্সের (টিএ বিল) বিল বাবদ ৬৪ হাজার টাকার বিপরীতে প্রত্যেককে ২ হাজার করে টাকা নিয়ে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাক্ষর দেওয়ার কথা বলেন। হিসাব রক্ষকের কাছে ট্রাভেল এ্যালাউন্সের টাকা না নিয়ে ওই ৪ কার্যসহকারী উপজেলা প্রকৌশলীর স্মরণাপন্ন হন। ট্রাভেল এ্যালাউন্স (টিএ বিল), অডিটের নামে বেতনভাতার টাকা কর্তনসহ তাদের উপর সরকারের দেয়া অর্পিত দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রকৌশলী মজিবর রহমানের কাছে তারা জানতে চান। সে সময় উল্টো ধমক দিয়ে প্রকৌশলী মজিবর রহমান তাদের বাবা মা তুলে গালমন্দ করেন। এ সময় কার্যসহকারীগন গালমন্দের প্রতিবাদ করলে প্রকৌশলী মজিবর রহমান তার টেবিলে থাকা ফাইলপত্র তাদের উপর ছুঁড়ে দেন। এনিয়ে প্রকৌশলীর রুমেই উভয়ের মাঝে বাকবিতন্ডাসহ তুমুল হট্রগোলের সৃষ্টি হয়। পাশের রুম থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপস্থিত ঠিকাদাররা গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে প্রকৌশলীর রুম থেকে কার্যসহকারীদের রুমের বাহিরে নিয়ে আসেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ মাঠে থাকা শতাধিক মানুষ তাদের এ দৃশ্য অপলক তাকিয়ে দেখেন। ‘কার্যসহকারী আব্দুস সালাম সরকার বলেন‘ প্রকৌশলী বিভিন্ন অজুহাতে দফায় দফায় আমাদের বেতনভাতা এবং ট্রাভেল এ্যালাউন্স (টিএ বিল) থেকে টাকা কেটে নেন। প্রতিবাদ করলে বাবা মা তুলে গালমন্দ করেন। তাকে কোন কথা বলাই যায় না।’ ‘কার্যসহকারী বেলাল হোসেন বলেন‘ আমরা ঠিকাদারের কাছ থেকে তার (প্রকৌশলীর) দাবীকৃত কমিশনের টাকা এনে দিতে না পারায় তিনি আমাদের সাথে বিমাতা স্বরুপ আচারণ করেন।’ ‘পিইডিপি-৩ প্রকল্পের কার্যসহকারী আল আমিন এবং অপর দুই কার্যসহকারী আফিজুর রহমান, এবং শফিকুল ইসলাম বলেন‘ প্রকৌশলীর কমিশনের দাবীকৃত টাকা এবং তার ব্যক্তিগত কাজ না করায় তিনি আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে নৈশ্য প্রহরী, মাষ্টার রোলে নিয়োজিত কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করান। আমরা অফিসের হাজিরা খঅতায় দিয়েই চায়ের দোকানে বসে সময় অতিবাহিত করি। তিনি শুধু কমিশনের টাকার জন্যই আমাদের সাথে বিরোধ করে আসছেন। ‘হিসাব রক্ষক হাফিজার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন‘ আমি মনগড়া কিছু করি না। স্যার (প্রকৌশলী) যা নির্দেশ দেন আমি তাই পালন করি। ‘এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মজিবর রহমানের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন‘ আমার অফিসের ইন্টারনাল বিষয় নিয়ে আপনার মাথা ব্যথা কেন? যা লেখার লেখেন।’‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বজলুর রহমানের তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন‘ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

