তানোরে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ কোম্পানীর ওষুধ

মিজানুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা :
মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের হাইকোর্টের নির্দেশনার পাশাপাশি ২০টি কোম্পানীকে সবধরণের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ এবং একইসঙ্গে ১৪ টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়েটিক উৎপাদন বন্ধের বিধিনিষেধ থাকলেও এসব কোম্পানীর নিষিদ্ধ ওষুধ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। ফলে নিষিদ্ধ এসব কোম্পানীর ওষুধ খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাজারো সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের দোকানগুলোতে নিষিদ্ধ এসব কোম্পানীর ওষুধ খুব একটা বিক্রি না হলেও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে গ্রামের হাট-বাজারের ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ফার্মেসি ও অস্থায়ী ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে ওই কোম্পানীগুলোর ওধুষসমূহ বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত লাভের আশায় গ্রামের একশ্রেণীর অসাধু ফার্মেসিগুলোর মালিকেরা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের কাছে এসব নিমানের ভেজাল ওষুধ বিক্রি করছেন বলে জানা যায়।

রোববার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানীর নি¤œমানের ওষুধ অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া যেসব কোম্পানীর অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এদের মধ্যে আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল ড্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স কেমিক্যাল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড কোম্পানীর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব নিষিদ্ধ কোম্পানীর ওষুধ এমন মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে যারা আদালতের নিদের্শনা সম্পর্কে কিছুই জানে না। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হাজারো সাধারণ মানুষ না বুঝেই এসব নিমানের ওষুধ প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় সাধারণ গ্রামের মানুষের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা তানোরের সর্বসাধারণের।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। তবে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত; চলতি বছরের ৭ জুন মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ ২০ ওষুধ কোম্পানির সকল ধরনের উৎপাদন বন্ধে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এছাড়াও আদালত রুল জারি করে এসব ওষধ কোম্পানির উৎপাদন বন্ধে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এবং লাইসেন্স বাতিলে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ১৪ টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়েটিক উৎপাদন বন্ধেরও নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের ৫ মে মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

  •  
  •  
  •  
  •