খাদ্য অপচয়: এক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

হালিমা তুজ সাদিয়া
একবিংশ শতাব্দীতেও এই পৃথিবীর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতি রাতে পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যান। অনাহার, অর্ধাহার আর অপুষ্টি তাঁদের নিত্যসঙ্গী। পৃথিবীতে প্রতি ন’জনে একজন ভুগছেন খাদ্য আর পুষ্টির অভাবে। ৯শ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে, প্রায় প্রতিটি স্তরেই আমরা খাদ্যে অনিরাপত্তার মুখোমুখি হচ্ছি এবং ৯২ কোটিরও বেশি মানুষের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নেই। বিশ্বে প্রতি বছর যত খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, তার অন্তত ৩০-৫০ শতাংশ অপচয় হচ্ছে। নষ্ট হওয়া এই খাদ্যের পরিমান প্রায় ২০০ কোটি টন।

এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপের ধনী দেশগুলোতেই খাদ্য অপচয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে উন্নয়নশীল এবং দরিদ্র দেশগুলোও খাদ্য অপচয়ে পিছিয়ে নেই।

আমাদের স্বাধীনতা লাভের পর বিগত ৪ দশকে বাংলাদেশের দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে। ওই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। পুষ্টির বিচারে দৈনিক একজন মানুষের ৫০০ গ্রাম শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণের হিসেবে বাংলাদেশ শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদনে বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য-নিরাপত্তা এবং পুষ্টি পরিস্থিতি-২০১২ এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের খাদ্য-নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে মূলত খাদ্য অপচয় ও খাদ্য প্রাপ্তির অসমতার কারণে দেশের এখনও শতকরা ৩৭ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সূত্র মতে, দেশের শতকরা ২৫ ভাগ মানুষ নিয়মিত খাদ্য সংকটে পড়ে। অথচ বাংলাদেশের মানুষের রাষ্ট্রীয়ভাবে গড়ে মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ২২৫০ কিলোক্যালরি যা গড়ে একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার কাছাকাছি। এ থেকে দেশে খাদ্য অপচয় ও খাদ্য গ্রহণের অসমতার চিত্রটি ফুটে ওঠে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও খাদ্যের অপচয় মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভা ২০১২ সনে বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্যের অপচয় হচ্ছে এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে ১০০ কোটি মানুষ স্থূলকায় হয়ে পড়েছে। অথচ বিশ্বে ক্ষুধার্ত ও পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩০০ কোটি। যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু ৩৭৭০ কিলোক্যালরি ভোগের বিপরীতে ইরিত্রিয়ার মাথাপিছু ভোগ মাত্র ১৫৯০ কিলোক্যালরি। একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিল অপরদিকে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মুটিয়ে যাওয়া। বর্তমানে বিশ্বে যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয় তাতে পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের মাঝে সমানভাগে ভাগ করে দিলে প্রত্যেকে পায় ২৭২০ কিলোক্যালরি যা একজন মানুষের প্রয়োজনীয় ক্যালরির জন্য যথেষ্ট। খাদ্য অপচয় রোধ করতে পারলে বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষ থাকবে না। বিশ্বে খাদ্যের দাম কমে আসবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সম্পদের ওপর চাপ হ্রাস পাবে।

বিগত সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি খাদ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়নি। কারণ গত ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০% বৃদ্ধির বিপরীতে গড় মাথাপিছু খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ১৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে খাদ্যের অপচয় ও খাদ্য প্রাপ্তির অসম চিত্র ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ। ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী ও পুষ্টির অভাব দূরীকরণ অত্যন্ত জরুরি।

এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, খাদ্য অপচয়ের কারণ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। সেগুলোর মধ্যে-
১. খাদ্য অপচয়ের অন্যতম কারণ বিলাসিতা। যুক্তরাজ্যে বছরে যে পরিমাণ শাক-সব্জি উৎপাদন হয়, তার ৩০% আকার-আকৃতির কারণে মাঠ থেকেই তোলা হয় না, কারণ সুপারমার্কেটে ক্রেতারা এই শাকসব্জির চেহারা দেখেই কিনতে চাইবে না।

২. ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে ক্রেতারা বছরে যত খাবার কেনেন, তার অর্ধেকই তারা ফেলে দেন। কারণ এসব দেশে খাবারের প্যাকেটের গায়ে কত তারিখের মধ্যে খাবারটি বিক্রি করতে হবে বা খেতে হবে, তা লেখা থাকে, এবং সেই নিয়ম মানতে গিয়েই এই অপচয়। শিল্পোন্নত ধনী দেশগুলো, যাদের অর্থনীতি অনেক বেশি সুসংগঠিত, সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে এবং বাজারজাতকরণের শেষ ধাপেই অপচয়টা বেশি হয়।

৩. উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপচয়টা হয়, ফসলের ক্ষেত থেকে খাদ্যসামগ্রী বাজারে এসে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী পর্যায়ে। তাদের অপচয়ের মূল কারণ মাঠ থেকে খাদ্যশস্য তোলা, প্রক্রিয়াকরণ এবং মজুদের প্রাচীন পদ্ধতি। এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেবল ভারতেই বছরে দুই কোটি টনের বেশ গম নষ্ট হয় ঠিকমত গুদামজাত না করা এবং অদক্ষ বিতরণ ব্যবস্থার কারণে।

খাদ্য অপচয় রোধে করণীয়-
আমাদের কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে, খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে, এর অন্যতম প্রধান কারণ ওভার-পপুলেশন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০৭৫ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৯৫০কোটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য ভবিষ্যতে আরও খাদ্যের দরকার হবে। এই মুহূর্তে মানবতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো “খাদ্যের সঠিক ব্যবহার”। এজন্য আমাদের যুগোপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন-

১. খাদ্যের অপচয় বন্ধ করতে দরকার উত্তম মনমানসিকতা এবং জনসচেতনতা।

২. খাবার অপচয় রোধে পারিবারিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, যা বর্তমানে কমে যাচ্ছে।

৩. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে বিলাসিতা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে খাদ্য অপচয়ের হার৷অথচ বিশ্বের অপর প্রান্তে অসংখ্য মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে৷ তাই খাদ্যের অপচয় রোধে সুষ্ঠু উদ্যোগ নেওয়া অতীব জরুরি।

৪. ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে বছরে প্রায় ৮৯ মিলিয়ন টন খাবার অপচয় হয়৷ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাড়ি-ঘরে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই এসব খাবারের অপচয় বেশি হয়ে থাকে৷ এগুলোর মধ্যে কিছু খাবারের নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার ফলে আবার কিছু রান্না করা খাবার অতিরিক্ত হয়ে যাওয়ায় কিংবা খাবার সংরক্ষণে সঠিক পন্থা বেছে না নেওয়ায় মূলত অধিক খাবার ফেলে দিতে হয়। এদিকে সচেতন হতে হবে।

৫. খাবার অপচয় শুরু হয় সেই মাঠ থেকেই৷ চাষী যখন ক্ষেতে দেখেন যে, শশাটা একটু বেঁকে আছে, কিংবা গাজরটা আকারে খুব ছোট হয়েছে বা রঙ পাকা হয়নি, তখন সেখান থেকেই সেগুলোকে ফেলে দেওয়া হয়৷ এছাড়া খাদ্য সামগ্রী ছোট ছোট ঠোঙ্গায় বা থলেতে পুরে দেওয়ার সময় নষ্ট হয় আরো ২০ শতাংশ। তাই খাদ্যে উৎপাদনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।

৬. খাবার সামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহের দীর্ঘ চক্রের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়। তাই ভোক্তাদের এ বিষয়ে আরো সচেতন করে তুলতে হবে এবং রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে এসব বিষয়ে আরো নির্ভরযোগ্য এবং পরিমাপযোগ্য তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হবে। খাদ্য অপচয় রোধে উত্তম পন্থা সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা, সেগুলোর বাস্তবায়নে গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি, কারণ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরবরাহের সাথে অনেকগুলো চক্র এবং ধাপ জড়িত রয়েছে।

৭. সবচেয়ে বেশি খাদ্য বিয়ের অনুষ্ঠানে অপচয় হয় বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় তথ্য উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে বা বাড়িতে যারা খাবার রান্না করছেন তাদের উচিত হবে জনসংখ্যার হিসেব রেখে তাদের জন্য ঠিক কী পরিমাণ খাবার রান্না করা উচিত তা নিজে আগে পরখ করে নিয়ে সে অনুসারে রান্না করা। এছাড়া অতিরিক্ত খাবার অতিথিদের বেঁধে দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও খাদ্য অপচয় রোধ করা যেতে পার।

৮. যেসব খাদ্য সামগ্রী অল্পদিন পরই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে, সেগুলোকে আলাদাভাবে রেখে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা উচিত। এর ফলে একদিকে যেমন ক্রেতারা অল্প দামে সেসব খাবার পাচ্ছে, অন্যদিকে, বিক্রেতার জন্যও কিছু অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

৯. ফসলের উৎপাদন, খাদ্য-সরবরাহ শৃঙ্খলে খাদ্য অপচয়ের সমাধানে সরকারি, বেসরকারি সব ক্ষেত্রেরই এগিয়ে আসা উচিত। ভোক্তা হিসেবে আমাদেরও অনেক কিছু করার আছে। সচেতনতার অভাবে ভাঁড়ার, রান্নাঘর, ফ্রিজ, গার্হস্থ্য পরিসরে খাবার কম নষ্ট হয় না। শুধুমাত্র কেনার তাৎক্ষণিক তাড়নায় নয়, খাদ্য কিনতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকে প্রস্তুত তালিকা অনুযায়ী। কোন রান্না আগে হবে, তা ঠিক করতে হবে খাবারের আয়ুষ্কাল অনুযায়ী। খাবারের ‘এক্সপায়ারি ডেট’-এর দিকে নজর থাকা দরকার। বেঁচে যাওয়া খাবারের আশু পুনর্ব্যবহারের প্রয়োজন। সেটি সম্ভব না হলে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার যাতে জৈবসারে পরিণত করা যায়, তার ব্যবস্থা থাকা দরকার।

১০. বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, হোটেলে ফুড কন্ট্রোলার বা খাদ্য-নিয়ন্ত্রক থাকা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। প্রথম পরিবেশিত খাদ্য পরিমাণগত ভাবে কম থাকুক। হোটেল, রেস্তোরাঁ, নিমন্ত্রণবাড়িতে খাদ্য নষ্ট না করার জন্য আবেদন বা প্ল্যাকার্ড থাকুক। আমন্ত্রিতজন না খেলে বা উপস্থিত না থাকতে পারলে আগাম আমন্ত্রণ-কর্তাকে জানিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা হোক।

একমাত্র সচেতনতাই এই অপচয় রোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা যতো বেশি খাবার নষ্ট করছি, বিশ্বে খাবারের দাম বৃদ্ধির জন্য আমরা ততোটাই প্রভাবক হিসেবে কাজ করছি।

যে পরিমাণ খাদ্যের অপচয় হয়, তার উৎপাদনের ব্যবহৃত কৃষিজমিও অপচয়। গবেষণার থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, এর পরিমাণ ১৪ কোটি লক্ষ হেক্টর। যা সারা পৃথিবীর চাষযোগ্য জমির এক-তৃতীয়াংশ। এই চাষ করতে গিয়ে সেই জমিতে স্বাভাবিক ভাবে জন্মান উদ্ভিদ নষ্ট করা হয়েছে। ফলে, জীববৈচিত্র নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া খাদ্য তৈরির জন্য যে জল ব্যবহার করা হয়েছে, তাও অপচয়। এ ভাবে সারা বিশ্বে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ২৫০ ঘন কিলোমিটার আয়তনের জল, যা রাশিয়ার ভোলগা নদীর বার্ষিক জলপ্রবাহের তিনগুণ। খাদ্য অপচয়ের ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশেও। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণে বিপুল পরিমাণ মানবশক্তি, জ্বালানি, পানি ও রাসায়নিকের যে অপচয় হচ্ছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, নষ্ট হওয়া খাবার থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হচ্ছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। এমনিতেই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে যা হুমকি হয়ে দাড়াচ্ছে আমাদেরই অস্তিত্বের জন্য। এজন্য শুধু অর্থের অপচয় রোধ কিংবা মানবশক্তি, জ্বালানি ও পানি সাশ্রয়ের জন্য নয়, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই আমাদের খাদ্য অপচয় রোধে এগিয়ে আসা উচিত। এটি করা সম্ভব হলে সব ক্ষেত্রেই শুধু উন্নতি লাভ সম্ভব হবে না, দরিদ্র ও অনুন্নত দেশগুলোর বিপুল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

আমাদের মনে রাখা দরকার, আমরা যখন পেট পুরে খাচ্ছি, নিজের সন্তানদের ভালো ভালো খাবার খাওয়াচ্ছি, ইচ্ছেমতো খাবার নষ্ট করছি, তখন পাশের বস্তিতেই একটি শিশু ঘুমাচ্ছে পেটে ক্ষুধা নিয়ে। অসুস্থ একটি মানুষ না খেয়েই দিন পার করছে। আর খাদ্য নষ্ট হওয়ার কারণে যে বাড়তি কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তা হুমকি সৃষ্টি করছে মানবজাতির অস্তিত্বে। এভাবে ভাবতে পারলে সমাজে খাদ্যের অপচয় প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে। ধনী দেশগুলোর এক্ষেত্রে অনেক কিছু করণীয় আছে। বিষয়টা তাদের এভাবে দেখতে হবে যে, তারা যখন শাক-সবজির আকৃতি পছন্দমতো না হওয়ার কারণে সেটাকে ফেলে দেয়, তখন বিশ্বের কত মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করে! উদ্বৃত্ত খাদ্য দিয়ে কত নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব, সে ব্যাপারে তাদেরও ভাবতে হবে; প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তও নিতে হবে। এজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন অতীব জরুরি। আমরা যদি সবাই নিজ থেকে সচেতন থাকি তাহলে হয়ত এই ক্ষতির প্রভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারবো।

__________________________________
হালিমা তুজ সাদিয়া
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

  •  
  •  
  •  
  •