দ্বিখণ্ডিত বাকৃবি-বিভক্ত কৃষিবিদ, দায়টা কার?

মতামতঃ

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবসে একটি “ন্যাক্কারজনক ঘটনা” ঘটে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই ঘটনাতে কেউ খুব বেশি একটা অবাক হননি। অবাক হননি কারণ আজ অথবা কাল এমন কিছু ঘটবে সেটি পূর্বানুমিত ছিলো। এই দ্বন্দ্ব, বিভেদ একদিনের নয়। বহুদিনের জমানো ঘৃণা, ক্ষোভ আর গ্রুপিং এর চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনা। এতদিন যা “ওপেন সিক্রেট” ছিলো আজ তা জ্বলন্ত বাস্তবতা। কৃষিবিদদের মধ্যে এই বিভেদ যখন সারাদেশের সামনে প্রকাশিত হয়ে গেছে সেটিও আবার কৃষিবিদ দিবসের দিন তখন একথা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এই বিভেদ সামনে আমাদের আরও সংকট সৃষ্টি করবে। কারণ দু’পক্ষের যুদ্ধে লাভ সবসময় “তৃতীয় পক্ষেরই” হয়।

১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্থানটিতে দাঁড়িয়ে কৃষিবিদদের চাকরিক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেছিলেন সেই স্থানটির খানিক সামনেই কৃষিবিদরা একে অন্যের গলা টিপে ধরে মিডিয়ার মাধ্যমে সারাদেশে জানান দিলেন কৃষিবিদরাও পারে নিজেদের গলা টিপে ধরতে! সেদিন দুপুরে লাইব্রেরির সামনে যে পলাশীর যুদ্ধ সংগঠিত হয়ে গেলো সে যুদ্ধের মীর জাফর আসলে কে? সে নিয়ে কিন্তু এখনো দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। দু’পক্ষই প্রতিবাদ – পাল্টা প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যস্ত। সেদিনের সেই রণক্ষেত্রে সবচেয়ে অসহায় মুখে একপাশে দাড়িয়ে ছিলো পুলিশ, তারচেয়েও অসহায় ছিল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন! এতবড় একটি ঘটনা ঘটে যাবার পর এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ বা অবস্থান প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসে নি, এটা আরও দুঃখজনক। এরকম অবস্থা হলে সামনে যে আরও বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে চলেছে সেটা না বোঝার কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা হলো অনেক সময় যাদের বোঝা দরকার তারা বুঝে উঠতে পারেন না বা বুঝতে চান না।

এই লেখার শিরোনাম “দ্বিখণ্ডিত বাকৃবি-বিভক্ত কৃষিবিদ, দায়টা কার?”। এটি দেখে অনেকে হয়ত এই লেখাটি পড়বেন আসল অপরাধী কে সে তথ্য জানার জন্য। কিন্তু তাদের আশাহত হতে হবে। ঠিক যেমনভাবে আশাহত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি “অমুক ভাই-তমুক ভাই” হীন শিক্ষক – শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কৃষিবিদদের নিজেদের মধ্যে দলাদলি, বিভেদ, দ্বন্দ্ব ক্রমেই আরও অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ। সর্বোপরি নষ্ট হচ্ছে “কৃষিবিদদের ভাবমূর্তি”। তাই এখনি যদি ব্যক্তিস্বার্থ এবং গ্রুপ স্বার্থের উপরে উঠে এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু মিমাংসা না করা যায় তাহলে হয়তো কিছুদিন পরে আমরা সগৌরবে কৃষিবিদ পরিচয় দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাবো।

– নাম প্রকাশে দ্বিধায় থাকা একজন কৃষিবিদ

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: