বাড়ির ছাদে মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী রাজু
মাদারীপুর সংবাদদাতা:
বাড়ির ছাদে মুরগি পালন করে দিন বদলে গেছে মাদারীপুরের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রহমাতুল্লাহ রাজুর। তার দৈনন্দিন আয় দেখে অনেকেই মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। রাজু দেখিয়েছেন, নিষ্ঠা থাকলে বাড়ির ছাদের মতো ছোট্ট জায়গাতেও যে আয়ের উৎস গড়ে তোলা সম্ভব।
মোহাম্মদ আলীউল্লাহর ছেলে রাজুর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার দরগা শরীফ এলাকায়। ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে দিন চলছিল না মোটেই। সংসার লেগেই ছিল টানপোড়েন। তখনই বাড়তি আয়ের পথ হিসেবে মুরগির খামার গড়ার চিন্তা আসে মাথায়। কিন্তু শহরের এই ছোট বাড়িতে জায়গা একেবারেই কম। তাই ছাদেই মুরগি পালন শুরু করে রাজু।
২০১০ সালে ১০০টি সোনালী লেয়ার মুরগি নিয়ে যাত্রা শুরু করে। আস্তে আস্তে তার খামারটি বড় হতে থাকে। মাত্র ৬ বছরে মুরগির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারে। ক্রমেই বাড়ছে এর পরিধি। ছাদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এখন বাড়ির পাশের জমি কিনেছেন। সেখানেও খামারের বিস্তার ঘটিয়েছেন। তার মুরগির খামার এখন জমজমাট।
খামারে প্রতিদিন অন্তত ৯০০ ডিম আসে তার। প্রতিহালি ডিমের পাইকারি দর ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অন্যদিকে একদিনের বাচ্চা মুরগি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে (বাচ্চার ওজন ২০-৩০ গ্রাম) কিনে ১৩-১৪ মাস পালন করে বিক্রি করেন। ১৩-১৪ মাস পালনের পরে মুরগির ওজন প্রায় দেড়কেজি থেকে পৌনে দুই কেজি হয় এবং প্রতি কেজি গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়। বাচ্চার বয়স ৬ মাস হলেই ডিম দেওয়া শুরু করে এবং একটানা প্রায় ৭-৮ মাস ডিম দেয়।
রাজু জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০০৬ সালে ৫০-৬০টি কোয়েল নিয়ে পালন শুরু করি। দিন দিন কোয়েল বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ৫০০টি কোয়েল হয় তার খামারে। কোয়েল পর্যাপ্ত পরিমানে ডিম দিলেও ডিম বেচার মতো ক্রেতা পাওয়া যায়না। ফলে এক পর্যায়ে কোয়েল পালন বন্ধ করে দিতে হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রাজু যে সোনালী লেয়ার মুরগির খামারটি করেছে, তা খুব ভাল খামার। আমাদের দেশের বেকার যুবক সবাই যদি তার মতো খামার গড়ে এবং প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ রেখে পরামর্শ নিয়ে খামারের পরিচর্যা করে, তাহলে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারবে অনেকেই।’

