সুড়সুড়ির আদ্যপান্ত

জয়তু কুমার মন্ডলঃ সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন, বাসা থেকে বের হতে পারছেন না, অঢেল সময়। হুট করে নিজেই নিজেকে সুড়সুড়ি দিতে ইচ্ছে করলো,চেষ্টা করে দেখুন তো এখুনি,পারছেন না তাই তো? বিষয়টা বেশ অদ্ভুত না? কেননা অন্য কেউ শরীরে হাত দিলে হাসির উদ্রেক হয় এবং সারা শরীর দুলে উঠে,তাহলে কেন আমরা নিজেরা নিজেকে সুড়সুড়ি দিতে পারিনা? তার আগে আসুন আমরা জেনে নেই সুড়সুড়ি ব্যাপারটা আসলে কী।

নিউরোসায়েন্টিস্ট দের মতে আমাদের শরীরে সুড়সুড়ির অনুভূতির জন্য ব্রেনের দুটি অংশ দায়ী ১. সমটোসেনসরি কর্টেক্স (somatosensory cortex) ২. সিঙ্গুলেট কর্টেক্স(cingulate cortex) যা আমাদের আনন্দের অনুভূতি দেয়। যখন কেউ আমদের সুড়সুড়ি দেয় তখন দুটি অঞ্চল একত্রে কাজ করে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র কে ট্রিগার করে। সুড়সুড়ি আবার দুই প্রকার গারগালেসিস(gargalesis) এবং নিসমেসিস (knismesis)।

এরমধ্যে গারগালেসিস তীব্র ধরনের সুড়সুড়ি যা অট্যহাসির কিংবা শরীরে দোলায়মান বা কাঁপুনি সৃষ্টি করে। অন্যদিকে নিসমোসিস শরীরে মৃদু সংকোচবোধ সৃষ্টি করে। তবে সুড়সুড়ি হাসির উদ্রেক সৃষ্টি করলেও এটি মোটেও অধিকাংশের জন্য কোন আনন্দদায়ক অনুভূতি নয় বরং অস্বস্তিকর।

জার্মানির এবারহার্ড কার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা অনুযায়ী আমাদের পূর্বপুরুষগণ অট্টহাসির মাধ্যমে খুব সম্ভবত আগ্রাসন প্রতিহত করতেন,অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হতো যে আমি লড়াইয়ে উৎসাহী নই সম্ভবত সেখান থেকেই আমাদের এই অভ্যাস টুকু এখনো রয়ে গেছে।কালের বিবর্তনে এর প্রয়োজনীয়তা হারিয়েছে তবে অভ্যাসটা রয়ে গেছে এবং কেউ সুড়সুড়ি দিলে ব্রেন তাকে প্রতিপক্ষ মনে করে এবং ফলস্বরুপ হাসির উদ্রেক সৃষ্টি হয় এবং জানান দেয় যে আমি লড়াইয়ে ইচ্ছুক নই।

আচ্ছা সুড়সুড়ি সম্পর্কে তো অনেক কিছু জানলাম ফিরে আসি আবার শুরুতে আমরা কেন নিজে নিজেকে সুড়সুড়ি দিতে পারিনা, এর জন্য আমাদের ব্রেনের সেরেবেলাম দায়ী নিজে যখন নিজেকে সুড়সুড়ি দেই তখন সেরেবেলাম আগেই বিষয়টি বুঝতে পারে এবং সুড়সুড়ির অনুভূতিকে বাতিল করে।এর অন্যতম বড় কারন সেরেবেলাম মানবদের ঐচ্ছ্যিক কার্যাবলি কে নিয়ন্ত্রন করে তাই সে জানে আপনার হাত কোথায় কিংবা আপনার পা এখন কি করছে। একারনেই সেরেবেলাম আগে থেকেই বুঝতে পারে যে আপনি নিজেই নিজেকে সুড়সুড়ি দিচ্ছেন এবং আপনার কোন সুড়সুড়ি অনুভূত হয়না।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: