সুন্দরবনে নতুন প্রাণীর আবিষ্কার

সাবরিন জাহানঃ

বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি সুন্দরবনে নতুন এক প্রানীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। অঙ্গুরীমাল নামক এই প্রাণীটি  অ্যানিলিডা‌ (বা কেঁচো, জোঁক) প্রাণীরাজ্যের একটি পর্ব। এদের দেহ নলাকার, খণ্ডিত। দেখতে ছোট ছোট আংটির মালার মতো, তাই নাম “অঙ্গুরীমাল”।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির মেরিন ইকোলজি ল্যাবরেটরির গবেষকরা সুন্দরবনের ঠাকুরান নদীতে সন্ধান পেয়েছেন নতুন এই প্রাণীটির। আর তার নামকরণেও জড়িয়ে নিয়েছেন সুন্দরবনকেই। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ট্যাক্সোনমি’-তে।

ইতিমধ্যে ‘গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ইনফর্মেশন ফেসিলিটি’ এবং ‘ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার অফ মেরিন স্পিসিস’ নামের দুটি আন্তর্জাতিক ডেটাবেসে নতুন এই প্রাণীর নাম সংযুক্তও হয়েছে।

শুধুই এই একটি প্রাণী নয়, বছর দেড়েক আগে মাতলা নদী থেকেও অনুরূপ একটি অঙ্গুরিমাল প্রাণী আবিষ্কার করেছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ল্যাবরেটরির গবেষকরা । তার নাম দেওয়া হয়েছে অ্যান্সিওস্টিলিস মাতলাএনসিস। সুন্দরবন অঞ্চলে মোট ৫৬ টি অঙ্গুরীমাল প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন তাঁরা। তার মধ্যে এই দুটি বিজ্ঞানীদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডঃ সুমিত মণ্ডল বলছিলেন, “আমরা যদি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের প্রতিটা সদস্যকে না চিনি, তাহলে আগামীদিনে বাইরের বাস্তুতন্ত্র থেকে কোনো প্রাণী ঢুকে পড়লে অর্থাৎ বায়ো-ইনভেশন ঘটলেও বুঝতে পারব না। আবার হয়তো শণাক্ত করার আগেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে অনেক প্রাণী।”

বন্যপ্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে ভয়ানক মহামারীর কবলে পড়তে পারে মানুষের সভ্যতা।জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নানা বন্য প্রাণী। মানুষের স্বার্থেই তাদের বাঁচিয়ে রাখা ভীষণ জরুরি। এর জন্য সমস্ত প্রাণীদের চিনতে হবে এবং বাস্তুতন্ত্রে তাদের ভূমিকা সম্বন্ধে জানতে হবে।

সুন্দরবন মানে শুধুই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়,এটি বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে ছোটবড়ো নানা জীব। তাদের সবাইকেই বাঁচিয়ে রাখতে হলে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যকে বাঁচিয়ে রাখার কথা মাথায় রাখতে হবে। আর তার জন্য চাই উপযুক্ত ধারণা। নতুন নতুন গবেষণায় সেই চিত্রটাই আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: ,