ধান থেকে তৈরি হবে কলেরা ভ্যাক্সিন!

রাগিব হাসান বর্ষণঃ কলেরা ভ্যাক্সিনের দাম দুই ডলারের কম হওয়া সত্ত্বেও অনেক দেশ তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে এই ভ্যাক্সিন ক্রয় করতে পারেনা। তাই এসব দেশের কথা মাথায় রেখেই বিজ্ঞানীরা বিকল্প উপায় খুজছেন অনেকদিন থেকে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এই সমস্যার সমাধানের উপায় পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কলেরা এখনো অনেক দেশের জন্যেই অভিশাপ, বিশেষ করে যেসব দেশে স্যানিটেশন ব্যবস্থা অপ্রতুল। প্রতি বছর বিশ্বে ২১০০০ থেকে ১,৪৩,০০০ মানুষ কলেরায় মারা যায়, এমতাবস্থায় গত ২৫শে জুন দ্যা ল্যানসেট মাইক্রোব জার্নালে প্রথমবারের মত জৈব প্রযুক্তি দ্বারা উৎপন্ন ধানের জাত থেকে মুখে সেবনযোগ্য কলেরা ভ্যাক্সিনের মানবদেহে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।

উদ্ভিদ থেকে ভ্যাক্সিন তৈরির ধারণাটি কয়েক দশক পুরনো, এটি একটি চমৎকার প্রক্রিয়া বলে মনে করেন টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউকোসাল ইমুউনোলজিস্ট হিরোশি কিয়োনো, বর্তমানে যিনি ধান থেকে উৎপাদনকৃত মুখে সেবনযোগ্য কলেরা ভ্যাক্সিনের গবেষকদলের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেন যে অনেক উদ্ভিদ থেকে ভ্যাক্সিন তৈরির সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি কারণ ভ্যাক্সিন উৎপাদনের জন্য সব উদ্ভিদকে আমরা অনেক সময় ধরে সংরক্ষণ করতে পারিনা। তাছাড়া এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার খরচও অনেক।

এত উদ্ভিদ থাকতে তারা ধান কে কেনো বেছে নিলেন? গবেষক দলের মতে, সহজলভ্যতা এবং উৎপাদন খরচের কথা মাথায় রেখেই তারা ধান থেকে ভ্যাক্সিন উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৭ সাল থেকে চলমান এই কাজে প্রথমে তারা জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের বীজের জিনে কিছু পরিবর্তন ঘটান যা ল্যাবরেটরিতে কলেরার জীবানুর বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে তারা ইদুরের উপর পরীক্ষা চালান এবং আশানুরূপ ফলাফল পান এবং মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর অনুমতি লাভ করেন। মোট ৬০ জন জাপানীর দেহে সর্বশেষ তারা এই ভ্যাক্সিনের প্রয়োগ করেন এবং দেখতে পান ভ্যাক্সিন টি শরীরে কলেরার বিপক্ষে এন্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। পরীক্ষাটি মানবদেহে খুব স্বল্প পরিসরে করা হলেও এটি সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বলে মনে করেন সিউলের আন্তর্জাতিক ভ্যাক্সিন ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী জন ক্লেমেনস, যিনি বর্তমানে প্রচলিত মুখে সেবনযোগ্য একটি কলেরা ভ্যাক্সিনের গবেষকদলের প্রধান ছিলেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন এ নিয়ে আরো বেশি গবেষণা হওয়া উচিত এবং তাড়াতাড়ি এই ধরনের ভ্যাক্সিন বাজারে আসা উচিত কলেরার জন্য। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে এই মুখে সেবনযোগ্য ভ্যাক্সিন একটি আশীর্বাদস্বরূপ কারণ এই ধরনের ভ্যাক্সিনের দাম কম, এটি সহজে সংরক্ষণ করা যায় এবং এর প্রয়োগের প্রক্রিয়াও সহজ। উল্লেখ্য বাংলাদেশে বর্তমানে পোলিওর জন্য মুখে সেবনযোগ্য ভ্যাক্সিন ব্যবহার করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আরো বিস্তারিত গবেষণার মাধ্যমে ধান থেকে উৎপাদিত এই কলেরার ভ্যাক্সিনটি স্বল্প দামে বাজারে আসবে এবং নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলোতে কলেরার প্রকোপ ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,