কচ্ছপের খাঁচা!
সাবরিন জাহান: ‘স্লো এন্ড স্টেডি উইন্স দ্যা রেইস’, ছোটোবেলার এই গল্পটায় আমরা দেখেছি কচ্ছপের অবিচলতা কিভাবে খরগোশকে হার মানিয়ে দেয়। দীর্ঘায়ু বিশিষ্ট এই প্রাণীটি এক ধরনের সরীসৃপ যারা জল এবং ডাঙা উভয় স্থানেই বাস করতে পারে । এদের শরীরের উপরিভাগে শক্ত এক ধরনের খোলস পরিলক্ষিত হয় যা তাদের শরীরকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রক্ষা করে।
প্রাচীন এই প্রাণীদের শক্ত খোলোসটিকে বলা যায় পাঁজরের খাঁচা কেননা এর সাথে মিল রয়েছে মানুষের কংকালতন্ত্রের পাঁজরের।
মেরুদণ্ড থেকে পৃথকভাবে সৃষ্টি হয়ে পাঁজরগুলো প্রসারিত হয় এবং মেরুদণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে এরা প্রাণীর কাঁধ এবং শ্রোণীর চারপাশে প্রসারিত হয়। পরবর্তীতে একত্রিত হয়ে তারা তৈরি করে ক্যারাপেস, এটিই খোলোস নামে পরিচিত।
আবার, খোলের নীচের অংশটি তৈরি হয় কাঁধের হাড় এবং স্টারনাম এর সমন্বয়ে যাকে বলে প্লাসট্রন। তাই কচ্ছপরা আসলে কোনো খোসার ভেতরে বাস করে না, বরং এরা নিজের পাঁজরের খাঁচার ভিতরেই বাস করে।
তবে খোলটি সম্পূর্ণ হাড় দিয়ে তৈরি নয়। এটিতে রয়েছে কেরাটিনের আচ্ছাদন, যা জলরোধী এবং সুরক্ষা প্রদানে সমর্থ। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও ব্রাজিলে। ধীরস্থির এই প্রাণীটির নথিভুক্ত দ্রুততম গতি ৫ মাইল/ ঘণ্টা।
সূত্র -বিবিসি সায়েন্স

