মহাকাশে চাঁদের কণার বিচরণ

সাবরিন জাহান: ২০১৬ সাল। পাঁচ বছর আগে, দক্ষিণ অ্যারিজোনার মাউন্ট গ্রাহাম অবসার্ভেটরির টেলিস্কোপে প্রথম ধরা পড়ে একটি গ্রহাণু, যা পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় ‘চাঁদের টুকরো’ নামে। পৃথিবী থেকে মাত্র ১.৪ কোটি কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে এই গ্রহাণু। এর আয়তন প্রায় লন্ডন আইয়ের সমান এবং তার গতিও উপেক্ষা করার মতো নয়।

‘কামোওয়ালেয়া’ নামের এই গ্রহাণুটি নিয়ে যে রহস্য, বিতর্ক ছিল, এবার দীর্ঘ গবেষণার পর এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে তারই অবসান করলেন গবেষকরা। সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট পত্রিকায় তুলে ধরা হয়েছে এই নতুন প্রতিবেশী সম্পর্কিত তথ্য।

গবেষকদের ধারণা, ৫০০ থেকে ১ লক্ষ বছর আগে জন্ম এই গ্রহাণুটির। তবে আবর্তনরত প্রস্তরখণ্ডটি চাঁদেরই টুকরো কিনা এ নিয়ে মতভেদ ছিল অনেক। কেননা মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মধ্যে থাকা অ্যাস্টেরয়েড বেল্ট বা গ্রহাণুপুঞ্জের বলয় থেকে এই গ্রহাণুর ছিটকে আসার সম্ভবনা এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না কোনোভাবেই।

অত:পর, বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল মিলিয়েই বিজ্ঞানীরা এখন জোর গলায় বলতে পারছেন খন্ডটি চাঁদের। ওই অঞ্চলে প্রাপ্ত গ্রহাণুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রহাণুটির গতিবিধির বিশ্লেষণে ফুটে ওঠে তফাৎ। তার গতির ধরণ এবং আবর্তন করার কক্ষপথে রয়েছে যথেষ্ট ভিন্নতা। বয়সও অ্যাস্টেরয়েড বেল্টের বয়সের থেকে বহুগুণ কম।

টুকরোটির ওপর আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে বিবেচিত হয় তা চাঁদেরই অংশ। কোনো বড়ো গ্রহাণু কিংবা ধূমকেতুর সঙ্গে চাঁদের ধাক্কা লাগার ফলে অংশটি ছিটকে বেরিয়ে আসে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে। তবে চাঁদের টুকরো’ শব্দে রয়েছে যে স্নিগ্ধতা, তা নেই বাস্তবের এই ক্ষেত্রে। কেননা, পৃথিবীর এত কাছ দিয়ে আবর্তনরত বিশালাকার এই টুকরো পৃথিবীর দিকে কখন যে ধেয়ে আসবে তার আতংক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া এতোটা সহজ নয়।

সূত্র : নেচার ডট কম।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3