বাকৃবি গবেষকের উচ্চফলনশীল সরিষার জাত উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের প্রফেসর ড. আরিফ হাসান খান রবিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগের প্রতি উচ্চমাত্রায় সহনশীল পাঁচটি জাত উদ্ভাবন করেছেন। জাতসমূহ হচ্ছে বাউ সরিষা-৪, বাউ সরিষা-৫, বাউ সরিষা-৬, বাউ সরিষা-৭, বাউ সরিষা-৮।

অলটারনারিয়া ব্লাইট একটি ছত্রাকজনিত রোগ যা তেলবীজের ৩০-৫০% ফলন কমিয়ে দেয়। মারাত্মক আক্রমনের ক্ষেত্রে অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগটি কোন কোন জমিতে শতভাগ ফসল নষ্ট করতে পারে। বাংলাদেশের এযাবৎকালে অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগের প্রতিরোধী কোনো জাত উদ্ভাবিত হয়নি।

প্রফেসর ড. রবিন এবং তার গবেষক দলের উদ্ভাবিত এই পাঁচটি জাত অলটারনারিয়া রোগপ্রতিরোধী। জাতগুলো উচ্চফলনশীল এবং গড় ফলন ২.৫ টন হেক্টর। এগুলো প্রচলিত অন্যান্য জাতসমূহের চেয়ে ৫০ থেকে ৮০ ভাগ বেশি ফলন দিতে সক্ষম।
এ জাতগুলো সারাদেশে চাষের উপযোগী বলে এ জাতসমূহ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানান গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর রবিন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ৫ বছরের নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে তার গবেষণা দল এ জাতসমূহ উদ্ভাবন করেছেন।
বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের অধীনে উক্ত প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে যা ২০২২ সালের জুন মাসে শেষ হবে। আগাম ও স্বল্প জীবনকালের আমন ধান চাষের পর উক্ত সরিষার জাতসমূহ চাষ করলে কৃষকরা বোরো ফসল ধরতে পারবেন বলে এ জাতসমূহ সারাদেশে চাষের উপযোগী। নিঃসন্দেহে উক্ত জাতসমূহ উদ্ভাবন বাংলাদেশের তেলবীজ কৃষিতে একটি অনন্য মাইলফলক।

গবেষণা প্রকল্পটির সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান।

অতিসম্প্রতি সারাবিশ্বের মত বাংলাদেশেও ভোজ্যতেলের প্রকট সংকটময় অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে বাকৃবি কর্তৃক উদ্ভাবিত এই পাঁচটি সরিষার জাত তেলসংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3