মাঠ সংস্কারে নিজস্ব ঘাসের নার্সারি করবে বিসিবি
খেলাধুলা ডেস্ক:
বাংলাদেশের ক্রিকেট মাঠগুলোর পরিচর্যায় দরকারি ঘাস প্রায়ই দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়। পুরো ব্যাপারটা একই সঙ্গে ব্যয়বহুল আবার সময়সাপেক্ষও বটে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সে কারণেই ঘাসের নিজস্ব নার্সারি করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচ পরিদর্শনে এসে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান হানিফ ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘মাঠের পরিচর্যায় ঘাসের ক্ষেত্রে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম, দেশের বাইরে থেকে ঘাস নিয়ে আসবো। কিন্তু দেশের আরও অনেক স্টেডিয়ামে এমন সমস্যা রয়েছে যেগুলোতে ঘাসের প্রয়োজন। সেগুলোও ঠিক করতে হবে। সে কারণে বিসিবি প্রথমবারের নিজস্ব একটা নার্সারি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই নার্সারী থেকে যেমন ঘাস লাগবে তেমনটা সাপ্লাই দেবো।’
গেল ফেব্রুয়ারি থেকে সংস্কার কাজ চলছে বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শুধু উইকেট রেখে পুরো মাঠের উপর থেকে ছয় ইঞ্চি মাটি উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন কাজ করছে প্রায় ১০০ শ্রমিক। সবমিলিয়ে নতুনভাবে সাজতে যাচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়াম। স্থানীয়দের সঙ্গে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক।
পুরো ব্যাপারটি নিয়েই বললেন বিসিবির এই কর্মকর্তা। তিনি জানালেন, মিরপুর মাঠের এই অবস্থার পিছনে মূল কারণ টানা ম্যাচ। বিশ্রাম না পাওয়ায় মাঠের পরিচর্যা করাও সম্ভব হয়নি গ্রাউন্ডস কমিটির পক্ষে। শ্রীলঙ্কা সফর থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত বড় সময় পাওয়ায় মাঠ সংস্কারের কাজে লেগেছে বোর্ড।
এ ব্যাপারে হানিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘যে ঘাসটা প্রাকৃতিকভাবে ওঠে, আমরা সেটা মিরপুর শেরে বাংলায় উঠতে দেই না। এর কারণ, যে সময়টা দরকার সেটা দেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। আপনারা খেয়াল করেছেন, বিপিএল চকালাকালীন সময়েও মাঠ স্বাভাবিক রাখার মতো সময় দেওয়া হয়নি, পরিচর্যা করা হয়নি। ঘাসের আলাদা একটা জীবন আছে। তাকে পানি দিতে হবে, আলো দিতে হবে। কিন্তু ব্যস্ত সূচির কারণে আমরা সেটা করতে পারিনাই। তাতে করে উপরের দিকের মাটি শক্ত হয়ে গেছে উপর থেকে বৃষ্টির পানি নিচে যেতে পারে না।’
সর্বশেষ মিরপুর স্টেডিয়ামের সংস্কারকাজ হয়েছে প্রায় ৮-৯ বছর আগে। সামনে আরও ৮-৯ বছর দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ভেন্যুকে ‘সুস্থ’ দেখতে চায় বিসিবি। সে কারণেই স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে। শুরুতে মাঠ সংস্কারের যে পরিকল্পনাটা করেছিলো বিসিবি, সেটা অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শকের সহায়তায় পরিবর্তিত হয়েছে। তাতে করে বেঁচে গেছে সময়।
এ নিয়ে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম মাঠের নিচে যে পাইপ আছে, তার সব বদলাতে হবে। কিন্তু তা আসলে না। তারা (অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক) বলল মাটির উপরের ছয় ইঞ্চি মাটি পরিবর্তন করলেই হবে, সঙ্গে কিছু পাইপ বদলাতে হবে। ছয় ইঞ্চি মাটি শক্ত হয়ে গিয়েছিলো, যে কারণে বৃষ্টির পানি নামতে পারতো না।’
সুখের খবর এই যে, শুধু মিরপুরেই আটকে থাকছে না বিসিবি। নার্সারী করার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলোতেও একইভাবে সংস্কারের কাজে এগোবে তারা, ‘আমরা সবগুলো স্টেডিয়ামে এটা করার স্বপ্ন দেখছি।’

